টলিউডের তারকাদের পূজার স্মৃতি

বিবিধ বিনোদন 15 Oct 2018 at 3:37pm 432
Googleplus Pint
টলিউডের তারকাদের পূজার স্মৃতি

অন্য সবার মতো কলকাতার সিনেমা পাড়ার তারকারাও মেতে ওঠেন পূজা উৎসবে। কিন্তু অতীতে কেমন ছিল তাঁদের দুর্গা উৎসব? স্মৃতির ভেলায় ভেসে সেই সময়ে ফিরে গেছেন কলকাতার কয়েকজন তারকা-

• মিমি চক্রবর্তী

ছোটবেলায় আমি খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম। তাই পরিবার থেকে একা একা পূজা দেখা বারণ ছিল। ব্যালকনি থেকেই দেখতাম আমার বয়সী মেয়েরা সেজেগুজে ঠাকুর দেখতে বেরোচ্ছে, ছেলেদের সঙ্গে নিত্যনতুন প্রেম করছে, হাসি-‌ঠাট্টা করছে। ইচ্ছে করতো ওদের সঙ্গে মিশে যাই। একবার পূজার ভোগ দিতে আমাদের হাউজিংয়ে এসেছিল একটি ছেলে। পরে শুনেছি, ছেলেটি আমাদের দারোয়ানের হাতে আমার নামে একটা চিঠি দিয়ে যায়। কিন্তু সেই চিঠি পড়া তো দূরের কথা, চোখে দেখারও সুযোগ পাইনি। তার আগেই আমার কাজিনরা দারোয়ানের কাছ থেকে সেই চিঠি নিয়ে নেয়। তারপর সেই চিঠির যে কী হলো আজও জানি না। জানি না কে সেই ছেলে, যে সাহস করে আমাকে চিঠি দিয়ে গিয়েছিল।

• আবীর চট্রোপাধ্যায়

ছোটবেলার পূজায় ছিল লাগামহীন আনন্দ। আমার পূজা ছিল অন্য আটদশজন ছেলে-মেয়ের মতো। ‌একবার মনে আছে, তখন আমি একাদশ বা দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। পূজায় সাংঘাতিক বৃষ্টি হয়েছিল। গোটা পুজাটাই মাথা গরম করে কাটিয়েছিলাম। সব পরিকল্পনা বৃষ্টিতে ভেস্তে গিয়েছিল। পরে যখন শেয়ার মার্কেটে চাকরি করতাম, তখন পূজায় আমার ছুটি ছিলনা। অফিসে যেতে হত। কারণ ওই অফিস চলত মুম্বাইয়ের নিয়মে। তখন বৃষ্টি হলে খুব খুশি হতাম। আমাকে অফিস যেতে হচ্ছে, আর বন্ধুরা আনন্দ করবে!‌ ওটা ছিল স্যাডিস্টিক প্লেজার!‌ তবে পূজায় আমার কোনো প্রেম হয়নি। কোনো মেয়ে আমাকে পাত্তা দিত না। তাছাড়া আমার অত সাহস বা আত্মবিশ্বাসও ছিল না।

• ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত

ছোটবেলার একটা স্মৃতি এখন মনে পড়ে। পূজার সময় আমার মাসির বাড়িতে সত্যনারায়ণ পূজা হত। সেখানে আমরা সবাই একসঙ্গে আনন্দ করতাম। সেটা ছিল আমাদের একটা বড় উত্‍সব। ছোটবেলায় কাজিনদের সঙ্গে নাচের অনুষ্ঠান করতাম। তবে সবচেয়ে বেশি যেটা মনে পড়ে সেটা হল, ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে ঠাকুর দেখতে যাওয়া আর বাবার সঙ্গে পূজার জুতা কিনতে যাওয়া। আর প্রতি বছরই আমার একই আবদার ছিল- হিল জুতা। বাবা কিছুতেই হিল জুতা কিনে দেবেন না, আর আমি হিল জুতা কিনবই। সে কারণে বাড়িতে আমাকে সবাই খেপাত। আরেকটা স্মৃতি খুব মনে পড়ে। তখন ক্লাস থ্রি-তে পড়তাম। কেনাকাটা করতে গিয়ে ম্যানিকুইনের (ডল) গায়ে একটা জামা দেখে মায়ের কাছে বায়না ধরেছিলাম- ওই জামাটাই আমার চাই। ওটা কেনার জন্য দোকানের সামনে ফুটপাথে বসে পড়েছিলাম নাছোড়বান্দার মতো।

• শুভশ্রী গাঙ্গুলি

আমার ছোটবেলার পূজা কেটেছে বর্ধমানে। তখন যে পূজায় খুব মজা করতাম তা নয়। লাইনে দাঁড়িয়ে পূজা দেখা আমার কোনদিনই পছন্দের ছিলনা। বরং কলকাতায় এসে দুর্গাপূজার মাহাত্ম টের পেয়েছি। তাছাড়া পূজার সময় প্রায়ই মামার বাড়ি চলে যেতাম। সেই স্মৃতি ছিল খুব আদরের। তবে পূজায় কখনো প্রেম হয়নি। আমি ছিলাম `অ্যাটিটিউড কুইন‌`, তাই কেউ আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার সাহস পেত না।

• প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী

পূজা এলে মায়ের কথা বেশি করে মনে পড়ে। আমার ছোটবেলার পূজার যাবতীয় স্মৃতি দমদমে মামার বাড়ির পূজাকে ঘিরে। খুব বড় করে পূজা হত। আত্মীয়স্বজনে সারা বাড়ি গম-‌গম করত। আর আমরা যারা ছোট, যারা ওই ‌বাড়ির নাতি-‌নাতনি, তাদের ছিল আলাদা আদর। সত্যিই স্বপ্নের দিন। যখন একটু বড় হলাম, তখন দুর্গা পূজা আমাদের ভ্যালান্টাইনস ডে হয়ে উঠল। তখন অবশ্য ভ্যালান্টাইনস ডে-‌র নাম শুনিনি আমরা। কিন্তু পূজার প্যান্ডেলে ঠিকই আবিষ্কার করতে পারতাম বিশেষ কোনো একজনকে। তারপর, প্যান্ডেলেই অপেক্ষা করতাম, কখন সে আসবে। প্রেমটা অবশ্য হয়নি কখনো, কিন্তু প্রতিবারই আবিষ্কার আর প্রতীক্ষার কমতি ছিল না। একটু বড় হয়ে তিন-‌চারজন বন্ধু মিলে ট্যাক্সি করে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছি। তারপর খেয়েদেয়ে সব পয়সা খরচ করে ফেলেছি। ফেরার সময় তাই নো-‌ট্যাক্সি। হন্টন। সেই হাঁটাতেও যে কী মজা ছিল, সেটা যেন এখনও অনুভব করতে পারি।

সূত্রঃ বাংলা ইনসাইডার

Googleplus Pint
Mizu Ahmed
Manager
Like - Dislike Votes 0 - Rating 0 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)