জেনে নিন ভালো ছাত্র হওয়ার সহজ ১০ টি সহজ উপায়

সাহায্য ও পরামর্শ 30 Sep 2018 at 12:16pm 952
Googleplus Pint
জেনে নিন ভালো ছাত্র হওয়ার সহজ ১০ টি সহজ উপায়

ভালো শিক্ষার্থী হতে হলে কী কী গুণ কীভাবে অর্জন করা দরকার তা জেনে নেয়া যাক-

১. পরিকল্পিত পড়াশুনা : যাবতীয় কর্মেরই একটি পরিকল্পনা থাকা চাই। এতে অনেক সহজে গুছিয়ে কাজ শেষ করা যায়। আর পড়াশুনার ক্ষেত্রে তো পরিকল্পনার কোনো বিকল্প হয়ই না। একজন শিক্ষার্থীর মেধা কেমন, সে দিনে কতক্ষণ পড়াশুনা করছে, কি পড়ছে বা কি পড়ছে না- এই বিষয়গুলোর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সে পরিকল্পিতভাবে পড়াশুনা করছে কিনা। কম মেধা নিয়ে তুলনামূলক অল্প সময়ে পরিকল্পনামাফিক গুছিয়ে পড়াশুনা করেও ভালো ফলাফল করা সম্ভব।

২. অগ্রাধিকার ঠিক করুন : একজন আদর্শ শিক্ষার্থী পড়ার সময়ে কোনো ঝামেলা বা অনধিকার প্রবেশকে গুরুত্ব দেয় না। বইপড়া বা কম্পিউটারে কাজ করার সময়ে যাবতীয় ফোন কল, টিভি দেখা, যেকোনো ধরনের খাওয়াদাওয়াকে তারা এড়িয়ে চলতে পারে। পড়ার সময়ে পড়া, অন্য বিনোদন পরে নিলেও চলবে।

৩. যেকোনো পরিবেশ-পরিস্থিতিতে পড়াশুনা : পড়াশুনার ক্ষেত্রে পরিবেশ-পরিস্থিতি একটি বড় বিষয়। আবার অনেক সময়ে যেকোনো কাজের ফাঁকেও টুকটাক কিছু শিখে নেওয়া যায়। কেউ নিরিবিলি শান্ত পরিবেশে পড়তে পছন্দ করে, কেউ রাত জেগে চুপচাপ পড়ে, আবার সকালের স্নিগ্ধ পরিবেশটাও অনেকের পছন্দ। তবে যাই হোক, মনোযোগ ধরে রেখে পড়াশুনার জন্য যেকোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবেশ বেছে নেওয়াই ভালো। এতে মন স্থির থাকে।

৪. পড়াশনার জন্য অনুসঙ্গগুলো গুছিয়ে রাখা : এলোমেলোভাবে কোনো কাজই আমাদের মনোযোগ ধরে রাখতে পারেনা। এতে বিক্ষিপ্ত হয়ে আমরা আমাদের কোনো কাজই সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে পারিনা। আমাদের পড়াশুনার জন্য যে যে অনুসঙ্গগুলো প্রয়োজন সেগুলো অবশ্যই হাতের নাগালে গুছিয়ে রাখুন। এজন্য ফাইল বা ব্যাগ তো ব্যবহার করতেই পারেন। এতে করে যা প্রয়োজন, তা খোঁজাখুঁজি করে সময় নষ্ট করতে হবে না।

৫. পড়া অনুযায়ী শেখা : শিখতে হলে প্রথমে ভালো করে পড়তে হবে। পড়ায় ভালো গতি থাকতে হবে, সবকিছু ভালোভাবে মাথার মধ্যে আত্মস্থ করতে হবে। পড়ার বিষয়, গ্রাফ, ছবি যাবতীয় কিছু আগে মাথার মধ্যে গুছিয়ে নিন। তারপর কেমন বুঝতে পারলেন সেটা আবার বুঝুন। কোনো বিষয় সম্পর্কে ভালো জানতে হলে সেই বিষয়ে বিস্তর পড়াশুনা করে নিন। ভালো পড়ুয়া হতে হলে বেশি করে প্রশ্ন করাও শিখে নিন।

৬. কাজের তালিকা তৈরি করুন : হাতে কোনো বড় অ্যাসাইনমেন্ট থাকলে ঘাবড়ে না গিয়ে আগে তালিকা করে নিন। সেটি সম্পন্ন করার জন্য সময় বের করুন, কাজটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিন। তারপর সেই কাজ করতে বসুন। প্রয়োজন হলে যেকোনো কাজের ফাঁকে বিষয়টি নিয়ে ভেবে রাখুন। ক্লাস, পরীক্ষার ক্ষেত্রেও এমন পদ্ধতি মেনে চলুন। এবং অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করার চেষ্টা করুন।

৭. ভালো নোট নিন এবং তা ব্যবহার করুন : বইপড়া এবং ক্লাস লেকচার শোনা দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো মন দিয়ে করা উচিৎ। পড়তে পড়তে বা লেকচার শুনতে শুনতে যে বিষয়গুলো জরুরি মনে হবে তা অবশ্যই নোট করে নেবেন। পরবর্তীতে সেগুলো পরীক্ষা বা উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করবেন। এগুলো আপনাকে সবার থেকে আলাদা করে তুলবে। বিষয়টি আপনার মনে রাখতেও সাহায্য করবে।

৮. কথা বলুন : আপনি যদি ভালোভাবে সবকিছু শিখতেই চান, তাহলে পড়ার পাশাপাশি সবার মাঝে কথা বলতে শিখুন। চুপ করে থাকলে বোঝাপড়া ভালো হয় না। আপনার ক্লাস চলার মাঝে বা গ্রুপ স্টাডি চলাকালে, বা হোক কোনো প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে শুধু শুনবেন না, প্রয়োজনে প্রশ্ন করবেন, কিছু শেয়ার করার থাকলে করুন। কিছু বুঝতে না পারলে শিক্ষককে জিজ্ঞেস করবেন। ভালো বুঝতে পারলেই ভালো ফলাফল আসবে।

৯. একসঙ্গে পড়াশুনা করুন : জ্ঞানের মাত্রাকে উন্নত করে তুলতে নিজে শুধু জানলেই হবে না। নিজের জানাকে অন্যের মধ্যে ছড়াতে হবে। আবার অন্যের কাছ থেকেও আমাদের কিছু না কিছু শেখার আছে। এজন্য আপনার অ্যাকাডেমিক পড়াশুনা বা যেকোনো পড়াশুনার মাঝে ‘গ্রুপ স্টাডি’ বা কয়েকজন একসঙ্গে হয়ে নিন। এতে জটিলতাগুলো কমে আসবে। এতে করে সবার পারফরমেন্সই একটা নির্দিষ্ট স্তরে চলে আসবে।

১০. প্রতিনিয়ত নিজেকে যাচাই করুন : সবাই জানি যে জানার কোনো শেষ নেই। তাই সব জানি বা পারি এটা ভেবে বসে থাকা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সবসময় চোখ-কান খোলা রাখা উচিৎ। জানার ইচ্ছা বজায় রাখতে হবে। আর সেই মতো নিজেকে প্রতিনিয়ত ঝালাই করবেন, জানা অজানা নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করুন। আর চূড়ান্ত কোনো পরীক্ষায় বসার আগে নিজের গতিপ্রকৃতি বুঝে নিন, নিজেকে পরীক্ষা করুন যে আপনি পুরোপুরি প্রস্তুত কিনা।

সূত্রঃ সময়ের কন্ঠস্বর

Googleplus Pint
Mizu Ahmed
Manager
Like - Dislike Votes 0 - Rating 0 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)