কারাবন্দি মা তাজিনের লাশ দেখে কান্না ধরে রাখতে পারলেন না

বিবিধ বিনোদন 23 May 2018 at 3:01pm 960
Googleplus Pint
কারাবন্দি মা তাজিনের লাশ দেখে কান্না ধরে রাখতে পারলেন না

গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের লাশ দেখে কাঁদলেন তার মা দিলারা জলি।

বুধবার (২৩ মে) সকালে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের হিমঘর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাকে শেষবারের মতো দেখাতে তাজিনের মরদেহ কারাগারে নেয়া হয় বলে জানান জেলার উম্মে সালমা।

তাজিন আহমেদের মা দিলারা জলি চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় দুই বছর ধরে কাশিমপুর কারাগারে বন্দি আছেন। মেয়ে তাজিনের লাশ নেয়ার পর কারাগারের ভেতর থেকে তাকে কারাফটকে আনা হয়। সেখানে মেয়ের লাশ দেখে কেঁদে ফেলেন তিনি।

মা দিলারা জলি কিছু সময় তাজিনের লাশের পাশে বসে থাকেন। এরপর লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় উত্তরার আনন্দবাড়ি শুটিং স্পটে তার লাশ রাখা হয়।

সেখানে তাজিন আহমেদের সহকর্মী ও বিনোদন জগতের অনেকেই তাকে শেষবারের মতো দেখতে আসেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সেখানে লাশ রাখার পর জানাজার জন্য গুলশানের আজাদ মসজিদে নিয়ে আসা হয়।

জানা গেছে, রাজধানীর বনানী কবরস্থানে বাবার কবরে তাজিন আহমেদকে দাফন করা হবে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২২ মে) বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাজিন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন।

এর আগে দুপুরের দিকে নিজ বাসায় তিনি হার্ট অ্যাটাক করেন। এরপর অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তাকে।

জানা যায়, যখন তাজিনের হার্ট অ্যাটাক হয় তখন বাসায় কেবলমাত্র একজন মেকাপ আর্টিস্ট ছিলেন। উনি তাজিনের সঙ্গেই থাকতেন। তিনিই তাজিনকে উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ, অভিনেতা রওনক হাসান, নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদ, সকাল আহমেদ, অভিনেত্রী জেনীসহ অনেকেই।

তাজিন আহমেদ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই নোয়াখালী জেলায়। তিনি বেড়ে উঠেছেন পাবনা জেলায়। ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন এ অভিনেত্রী। তিনি বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রী এবং উপস্থাপক।

দিলারা ডলি রচিত ও শেখ নিয়ামত আলী পরিচালিত ‘শেষ দেখা শেষ নয়’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার অভিনয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। নাটকটি ১৯৯৬ সালে বিটিভিতে প্রচারিত হয়েছিল।

এরপর তিনি অসংখ্য নাটক-টেলিছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদের নাটক ‘নীলচুড়ি’তে অভিনয় করেও বেশ আলোচিত হন। তার সর্বশেষ অভিনীত ধারাবাহিক নাটক ‘বিদেশি পাড়া’। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মিডিয়া থেকে দূরে ছিলেন।

তাজিন আহমেদ ভোরের কাগজ, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সাংবাদিকতাও করেছেন। আনন্দ ভুবন ম্যাগাজিনের কলামিস্টও ছিলেন তিনি। পরে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে পাবলিক রিলেশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সঙ্গীত শিল্পী ও পরিচালক রুমি রহমানের সাথেই সংসার জীবনে আবদ্ধ ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ জীবনে একাকী জীবন কাটছিল তার।

মায়ের হাত ধরেই অভিনয়ে আসেন তাজিন আহমেদ। মা দিলারা জলির প্রোডাকশন হাউজ ছিল। তিনি দীর্ঘদিন থিয়েটারেও অভিনয় করেছেন। ‘নাট্যজন’ থিয়েটারের হয়ে বেশকিছু নাটকে তিনি অভিনয় করেন। এরপর ‘আরণ্যক’ নাট্যদলের হয়ে ‘ময়ূর সিংহাসন’ নাটকে কাজ করেছিলেন। এতে তিনি বলাকা চরিত্রে অভিনয় করেন। তার সর্বশেষ অভিনীত মঞ্চনাটক এটি।

অভিনয়ের বাইরে লেখালেখির কাজেও যুক্ত ছিলেন তাজিন। লিখেছেন একাধিক নাটক। আর নিয়মিত মিডিয়ায় সময় দিতে না পারলেও উপস্থাপনায় ছিলেন বেশ দাপুটে। এনটিভিতে প্রচারিত ‘টিফিনের ফাঁকে’ অনুষ্ঠানে টানা ১০ বছর উপস্থাপনা করেন তিনি। একাত্তর টিভিতেও ‘একাত্তরের সকালে’ হাজির হয়েছেন তিনি।

রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তাজিন। রাজনৈতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ (এনডিএম)-এ যোগ দিয়েছিলেন। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় সম্পাদক (সাংস্কৃতিক) পদে দায়িত্বপালন করেছেন তিনি।

স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তার মেকাপ আর্টিস্টই তাকে দেখাশোনা করতেন। দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকায় একা বসবাস করে আসছিলেন তিনি। মূলত বিটিভিযুগীয় অভিনেত্রী ছিলেন তাজিন আহমেদ। ওই সময়ে বিটিভির দর্শকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় একটি নাম হয়ে উঠেন তিনি।

Googleplus Pint
Jafar IqBal
Administrator
Like - Dislike Votes 0 - Rating 0 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)