আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রম

সাস্থ্যকথা/হেলথ-টিপস 13th Dec 17 at 1:27pm 470
Googleplus Pint
আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রম

আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রম অন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের একটা জটিল সমস্যা। এ রোগের উপসর্গগুলোও নানাবিধ। অন্ত্রের অন্যান্য সমস্যা যেমন প্রদাহজনিত অন্ত্রের সমস্যা বা অন্ত্রের ক্যান্সারের সঙ্গে আইবিএসের উপসর্গসমূহের কদাচিৎ মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তবে আইবিএস থেকে এ জাতীয় রোগের সৃষ্টি হয় না।

আইবিএস কী
মানবদেহে খাদ্যনালি ও অন্ত্র হল মাংশপেশি দ্বারা তৈরি একটি নল (টিউব)। সে কারণে মাংশপেশির যখন অতিরিক্ত সংকোচন বা প্রসারণ হয় তখন অন্ত্রের ভেতরে খাদ্য বা মলের গতি ব্যাহত হয়।
ফলশ্রুতিতে ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে থাকে। কখনও কখনও ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য পর্যায়ক্রমে (Alternately) হতে থাকে। মলত্যাগের এ প্রক্রিয়ার ওপর ব্যক্তির কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এটাই আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রম।.

কোন বয়সে হয়
১৮-৪০ বছরের মহিলা ও পুরুষের মধ্যে এ রোগের লক্ষণসমূহ পরিলক্ষিত হয়। পুরুষের তুলনায় মহিলারা এ রোগে বেশি ভুগে থাকেন।

উপসর্গ
* পেটব্যথা- যা মলত্যাগ বা বায়ু নিঃসরণের পর কমে যায়।
* খাবার পর পেট ফুলে যাওয়ার অনুভূতি (Bloating)
* ডায়রিয়া- সাধারণতঃ সকালে মলত্যাগের সময় হয়ে থাকে।
* কোষ্ঠকাঠিন্য- মল অত্যন্ত শক্ত অথবা ছোট ছোট পিণ্ড হয়ে বের হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মলত্যাগের সময় চাপ প্রয়োগ করতে (কোৎ দিতে) হয়।
* পিচ্ছিল পদার্থ (Mucus) বা চর্বিযুক্ত মল।
* মলত্যাগের পরেও মনে হয় আবার মলত্যাগ করতে হবে (Incomplete Evacuation)।

যে উপসর্গ IBS’র সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়
ক্ষুধামন্দা, বমি বা বমিভাব, ঢেঁকুর ওঠা, মাথাব্যথা, ঘাম হওয়া, অনিদ্রা, জ্ঞান হারানো, রক্তমিশ্রিত মলত্যাগ-এগুলো IBS’র লক্ষণ নয়।

উপসর্গের ধরন
ব্যক্তিবিশেষে ওইঝ’র উপসর্গগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। উপসর্গগুলো কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ, কয়েক মাসও স্থায়ী হতে পারে। যদিও উপসর্গগুলো বেশির ভাগ সময় পর্যায়ক্রমে ঘটে থাকে। যেমন-ডায়রিয়া পরবর্তী কোষ্ঠকাঠিন্য বা বিপরীতক্রমে উপসর্গগুলো প্রকাশ পায়। পেটের ব্যথা (মাঝারি অথবা অসহ্য ব্যথা) কোন নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে হয় না তবে ঘুমন্ত অবস্থায় কখনই এ ধরনের ব্যথা পরিলক্ষিত হয় না।

মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্ক
সহনীয় পর্যায়ের মানসিক চাপ মানুষকে উদ্বিগ্ন করে। তবে অত্যাধিক মানসিক চাপ মানুষকে বিষাদগ্রস্ত করার ফলে এসব উপসর্গগুলো বৃদ্ধি পায়। সমস্যাটা হল বিষণ্ণতার কারণে অন্যসব বিষয়ের পাশাপাশি মানুষ অন্ত্রের (মলত্যাগের) বিষয়েও তখন দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে ফলে অন্ত্রের সমস্যা তৈরি হয় আবার অন্ত্রের সমস্যাও মানুষকে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তোলে।

ওইঝ থেকে মুক্তি পেতে মানসিক চাপ কমানো প্রয়োজন, দৈনন্দিন জীবনে মানসিক চাপকে এড়ানো যায় না তবে আয়ত্বের মধ্যে রাখা সম্ভব। মানসিক চাপ কমানোর জন্য ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম করার সময় মানসিক চাপ অনেকটাই কমে আসে।

খাদ্যাভ্যাস
আঁশযুক্ত খাবার IBS’কে প্রতিহত করে। তাই ধীরে ধীরে আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শাকজাতীয় খাবার বা যে সমস্ত খাবার গ্যাস উদ্রেক করে তা পরিহার করুন। দুধজাতীয় খাবার অনেকের হজম হয় না, গ্যাস উদ্রেক করে বা প্রচুর বায়ু নিঃসরণ করে থাকে। তাদের ক্ষেত্রে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সও (দুগ্ধ জাতীয় খাবার হজমে সমস্যা) থাকতে পারে।

ওষুধ
IBS’র উপসর্গগুলো কমানোর জন্য বাজারে নানা ধরনের ওষুধ আছে তবে তা কখনই চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত খাওয়া ঠিক নয়।
* মনে রাখবেন যে কোনো ওষুধ খাওয়ার আগে আপনার রোগ সম্পর্কে চিকিৎসককে জানানো বাঞ্ছনীয়।
* আপনার চিকিৎসকই আপনার রোগ নির্ণয় করে যথাযথ পরামর্শ/ওষুধ দিয়ে থাকেন।
* IBS একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, প্রক্টোসার্জারি বাংলাদেশ, সেক্টর-১২, উত্তরা, ঢাকা
ahamadyyuaman-gmail.com

Googleplus Pint
Masuk Ali
Member
Like - Dislike Votes 21 - Rating 4 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)