ধরন বুঝে ত্বকের যত্ন

রূপচর্চা/বিউটি-টিপস 16th Oct 17 at 6:21pm 443
Googleplus Pint
ধরন বুঝে ত্বকের যত্ন

এখন চলছে শরৎকাল। এ ঋতুর শুষ্কতা থেকে ত্বককে সুরক্ষা দিতে চায় সবাই। প্রকৃতির বদলের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ত্বকেও আসে পরিবর্তন। তাই এ সময় ত্বকের পরিচর্যায়ও আনতে হবে পরিবর্তন। তাহলে জেনে নিন শরতের এই সময়ে কিভাবে ত্বকের পরিচর্যা করবেন।

ত্বকের ধরন
ত্বকের প্রাকৃতিক যত্নের প্রথম ধাপ ত্বকের ধরন বুঝা। ত্বক কয়েক ধরনের হয় শুষ্ক, তৈলাক্ত, স্বাভাবিক, মিশ্র ও স্পর্শকাতর। একটি পাতলা টিস্যুর সাহায্যে সহজেই ত্বকের ধরন বুঝতে পারেন। সকালে ঘুম ভাঙার পর মুখ ধোয়ার আগে কপাল, নাকের ভাঁজ, চিবুক, গালে আলতো করে টিস্যুর চাপ দিন। ত্বক তৈলাক্ত হলে মুখের প্রতিটি অংশ থেকেই টিস্যুতে তেলের ছোপ পড়বে। এ ধরনের ত্বকে প্রায়ই ব্রণ হতে দেখা যায়। যদি কপাল, নাকের ভাঁজ, চিবুকে তেল পান তখন বুঝবেন আপনার ত্বক স্বাভাবিক। শুধু নাকে ও চিবুকে তেল থাকলে ত্বকের ধরন হবে মিশ্র। শুষ্ক ত্বকে তেল তো থাকেই না বরং খড়খড়ে হয়ে যায়। স্পর্শকাতর ত্বক খুব পাতলা হয় অতিরিক্ত ফরসা হয় ক্ষেত্রবিশেষে নীল শিরা দেখা যায়। এ ধরনের ত্বকের জন্য সব ঋতুতেই চাই অতিরিক্ত যত্ন।

প্রাকৃতিক পরিষ্কারক
প্রতিদিনের শেষে এবং ফেসপ্যাক ব্যবহারের আগে মুখ পরিষ্কার করা চাই। ত্বক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো তৈলাক্ত ত্বকের পরিষ্কারক হবে শসার রস, স্বাভাবিক ও মিশ্র ত্বকের জন্য গাজরের রসে দু-এক ফোঁটা লেবুর রস, শুষ্ক ত্বকে দুধ ও মধুর মিশ্রণ, আর স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য দুধ, মধু ও শসার রসের মিশ্রণ। এ তরল মিশ্রণগুলো কাচের পাত্রে করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যাবে। তুলার সাহায্যে মুখে লাগাতে হবে। শুকিয়ে এলে কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে।

প্রাকৃতিক ফেসপ্যাক
সপ্তাহে অন্তত একদিন ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক ফেসপ্যাক ব্যবহার করা উচিত। আর ফেসপ্যাকটি অবশ্যই হবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী। তৈলাক্ত ত্বকের ফেসপ্যাকের জন্য নেবেন মুলতানি মাটি অথবা মটর ডালের বেসন এক টেবিল চামচ, শসার রস এক টেবিল চামচ, মধু আধা চা-চামচ, লেবুর রস আধা চা-চামচ। শুষ্ক ত্বকের মিশ্রণটি হবে আধা চা-চামচ মধু, একটি ডিমের হলুদ কুসুম, হালকা চন্দন গুঁড়া এবং আধা চা-চামচ অলিভ অয়েলের। ডিমে অ্যালার্জি থাকলে শুষ্ক ত্বকের আরেকটি মিশ্রণ হবে দুই টেবিল চামচ বাঁধাকপির রস, এক চা-চামচ মধু ও এক চা-চামচ ডালের বেসনের। যাদের ত্বক স্বাভাবিক, তারা আধা চা-চামচ দুধের সর, আধা চা-চামচ মধু, এক চা-চামচ কাঁচা হলুদের রস, এক টেবিল চামচ ময়দার ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে মুখে আলাদা চমক আসবে। যাদের ত্বক মিশ্র, তাদের মিশ্রণটি হবে মসুর ডালের বেসন দুই চা-চামচ, গাজর পেস্ট এক টেবিল চামচ এবং আধা চা-চামচ মধুর। স্পর্শকাতর ত্বকের মিশ্রণে থাকবে এক টেবিল চামচ সয়া পাউডার, আধা চা-চামচ কাঠবাদামের পেস্ট, আধা চা-চামচ মধু ও এক টেবিল চামচ দুধ। ফেসপ্যাকের মাস্ক অন্তত আধা ঘণ্টা মুখে মাখিয়ে রাখতে হবে। হালকা গরম পানিতে মুখ পরিষ্কার করে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে।

ত্বক পরিষ্কারে সাবানবিহীন পণ্য ব্যবহার
আপনি ত্বক পরিষ্কারক হিসেবে অবশ্যই সাবানবিহীন অর্থাৎ সোপ ফ্রি ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন। সাবান আপনার ত্বকের স্বাভাবিক দীপ্তি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

মুখের ত্বকের মতোই গলা এবং পিঠের যত্ন নিন
অনেকেই মনে করেন কেবল মুখের ত্বকের যত্ন মানেই ত্বকের যত্ন। বাস্তবিক আপনার সম্পূর্ণ শরীর জুড়েই ত্বকের অবস্থান আপনাকে শরীরের সব জায়গায় সমান যত্ন নিতে হবে। বিশেষ করে আপনি যখন বাইরে যান, তখন আপনার ঘাড় কিংবা গলায় সূর্যের আলোর প্রভাব অনেক বেশি পড়ে, একই সঙ্গে এই জায়গায় ময়লাও অনেক বেশি হয়। সুতরাং এসব জায়গায় ঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে। গরমের দিনে বাইরে থেকে এসেই ঘাড়ে একটি তোয়ালে ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে লাগান। এতে আপনার ঘাড় এবং মাথা উভয়ই শীতল থাকবে।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 14 - Rating 5 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)