ঘুরে আসুন সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি বিছনাকান্দি থেকে

দেখা হয় নাই 19th Apr 16 at 1:11pm 290
Googleplus Pint
ঘুরে আসুন সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি বিছনাকান্দি থেকে

প্রকৃতির অসাধারণ রূপ-লাবন্যে ঘেরা স্থানটি ৩৬০ আউলিয়ার দেশ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। বর্ষার দিনে বিছনাকান্দির পূর্ণ যৌবন লাভ করে। যাতায়াত হয় অনেক সহজ। গরমের অস্বস্তি থেকে প্রকৃতির কোলে শান্তি পেতে চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন বিছনাকান্দি থেকে। সিলেটের স্বর্গীয় বিছানা নামে বিছনাকান্দিতে আপনি পেতে পারেন প্রকৃতির মনোরম লাবণ্যের স্পর্শ। একে জীবন-যাপনের যাবতীয় ক্লান্তি বিসর্জনের জন্য চমৎকার জায়গা বললেও বরং কম হয়ে যায়।

কীভাবে যাবেন?

বিছনাকান্দির এমন সৌন্দর্য বরষা চলে গেলে বা পানি কমে গেলে আর থাকেনা। তখন এটা একটা মরুদ্যান মতো লাগে। পাথর বহন করার জন্য এখানে চলে অজস্র ট্রাক আর ট্রাকটর। সুতরাং অক্টোবর পর্যন্ত বিছনাকান্দি যাবার মোক্ষম সময়। মন চাইলে এখনি চলে যেতে পারেন।ঢাকা থেকে প্রথম আপনাকে সিলেট শহরে যেতে হবে। তার পর সেখান থেকে বিছনাকান্দি যাবার কয়েকটা পথ রয়েছে। আপনি চাইলে নদী পথে যেতে পারেন। আবার সড়কপথে নিজস্ব বাহন, সিএনজি চালিত অটো রিকসা কিংবা লেগুনা ভাড়া করে দল বেঁধে যেতে পারেন। নদী পথে গেলে আপনাকে প্রথমে যেতে হবে পাংখুমাই। সেখান থেকে ট্রলারে চেঁপে বিছনাকান্দি। পাংখুমাই হয়ে বিছনাকান্দি গেলে বাড়তি পাওনা এখানকার বিশাল ঝর্না আর পিয়াইন নদীর অপরূপ রূপসূধা। পাংখুমাই যেতে সময় লাগে দেড়ঘন্টা।

সেখান থেকে বিছনাকান্দি আরও দেড় থেকে দুই ঘণ্টার পথ। সড়কপথ হলে সিলেট শহর থেকে যে কোন বাহনে চেপে চলে যান হাদারপার বাজার। সেখান থেকে নৌকায় বিছনাকান্দি। যেভাবেই যান হাদারপার বাজারে গনি মিয়ার ভূনা খিঁচুড়ি খালি পেটে অমৃত সুখ দেবে আপনাকে। তবে আপনার জন্য আমাদের পরামর্শ সড়ক পথে বিছনাকান্দি যাওয়া। সেক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে হাদারপার খেয়াঘাঁটে নৌকার মাঝি যাচ্ছে তাই ভাড়া চাইবে। দরদাম ঠিক করে কম পক্ষে তিন ঘণ্টার জন্য হাদার পার থেকে নৌকা ভাড়া নিয়ে তবেই বিছনাকান্দির পথ ধরুন। ভাড়া ৬০০টাকার বেশি নয়।

unnamed-2.jpg

আপনি যদি রাতের বাসে ঢাকা থেকে সিলেটের বাসে চড়েন। তাহলে সকালেই আপনাকে শহরে নামিয়ে দিবে। দিনটি যদি মেঘাবৃত আকাশ আর বৃষ্টিঝরা দিন হয়, তাহলে আপনি খুবই সৌভাগ্যবান! কারণ দিনটি এমন না হলে বিছনাকান্দির সৌন্দর্য ঠিক বোঝা যায়না! সিলেট থেকে সকালে বৃষ্টি মধ্যে রওনা দিতে পারলে আপনার মন খুশিতে নেচে উঠবে। বিছনাকান্দি যাওয়ার পথে আপনি মালিনিছড়া চা বাগান সালুটিকর আর বিমান বন্দর রোড হয়ে দেড় ঘণ্টায় পৌঁছে যেতে পারবেন হাদারপার বাজার। এখানে খানিকক্ষণ বিশ্রাম নিতে পারেন।

তারপর হাদারপার বাজারের বিখ্যাত ভূনা খিচুরী খেয়ে হাদারপার খেয়াঘাট থেকে নৌকায় চেঁপে বিছনাকান্দি যেতে পারেন। নৌকা আপনাকে নিয়ে যতই বিছনাকান্দির দিকে যাবে ততই আপনার কাছে মনে হতে থাকবে বিছনাকান্দির সৌন্দর্যছটা যেন উপচে বের হচ্ছে। সঙ্গে মিলেমিশে একাকার নদীর এপার আর ওপারের অপার সৌন্দর্য। এভাবেই ঠিক পনের মিনিট পর আপনি পৌঁছে যাবেন বিছনাকান্দি।

অবিশ্বাস্য সৌন্দর্যের সমাহার। কল্পনাও করতে পারবেন না বিছনাকান্দির সৌন্দর্য। বিস্ময়কর মানে এতটাই বিস্ময়কর। কাছেই দাঁড়িয়ে মেঘে ঢাকা মেঘালয় পর্বতমালা আর সে পাহাড় থেকে প্রবাহিত সু-শীতল ঝর্নাধারার তীব্র প্রবাহ। এখানে পাথরে ভরা পুরো এলাকা। পানিতে বিছানো রয়েছে মোটা-শক্ত, ছোট-বড় হাজার কোটি পাথর। সে সব পাথরের কোনোটাতে মোটা ঘাসের আস্তরণ। আবার কোনোটা বা ধবধবে সাদা।এ সব পাথর মেঘালয় পর্বতমালার ওপর থেকে প্রবাহিত ঝর্নার ধারায় চলে এসেছে পিয়াইন নদীর বিছনাকান্দি অংশে। মুগ্ধ চিত্তে চেয়ে চেয়ে দেখতে বিছনাকান্দির চারপাশ।যত দেখবেন ততই মুগ্ধ হবেন। তারপর ঝাঁপিয়ে পড়তে ইচ্ছে করবে পাথর ভরা পিয়াইন নদীর সু-শীতল সেই জলে। শরীর এলিয়ে দিয়েই পাথর জলের বিছানায় আপনার মনে হবে, আহা কী শান্তি! যে বিছানা ছেড়ে হয়তো কোন কালেই উঠতে ইচ্ছে করবে না আপনার!

Googleplus Pint
Jafar IqBal
Administrator
Like - Dislike Votes 25 - Rating 5 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)