জানা আছে কি আপনার, মৃত্যুর পর আপনাকে কতদিন থাকতে হবে কবরে?

ইসলামিক শিক্ষা 12th Jun 17 at 10:46pm 872
Googleplus Pint
জানা আছে কি আপনার, মৃত্যুর পর আপনাকে কতদিন থাকতে হবে কবরে?

প্রত্যেক নর-নারীকেই একদিন মৃত্যূর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আল কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবেই এই কথা উল্লেখ করেছেন। কবরবাসীরা দীর্ঘদিন কবরে থাকার যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন সবাই কবর থেকে উঠে হাসরের মাঠের দিকে দৌড়ে যাবেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো মৃত্যুর দিন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত মানুষ আসলে কতদিন কবরের মধ্যে থাকবে?

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, ‘আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্র করবেন। যেন তারা দিবসের মুহূর্তকালমাত্র অবস্থান করেছে (কবরের মধ্যে)।’ (ইউনুস, ১০ : ৪৬)

আর যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে সেদিন অপরাধীরা কসম করে বলবে যে, তারা (কবরে) মুহূর্তকালের বেশি অবস্থান করে নি। এভাবেই তারা সত্যবিমুখ থেকেছে। (রুম, ৩০ : ৫৫-৫৬) কোরআন মাজিদ জীবনকে চৈতন্য এবং মৃত্যুকে নিদ্রা বলে ব্যক্ত করেছে। মৃত্যু যখন আমাদেরকে একবার গ্রাস করে, তখন কিয়ামত দিবসে পুনরুত্থান পর্যন্ত আমাদের কোনো সময়-জ্ঞান থাকবে না।

এ থেকে বুঝা যায়, যখন মানুষ কবর থেকে উত্থিত হবে তখন তাদের কবরে অবস্থানের সময়কাল সম্পর্কে কোনো ধারণা থাকবে না। যদিও তারা সেখানে শত শত বছর অবস্থান করবে, তথাপি তারা চিন্তা করবে, তারা সেখানে এক ঘন্টা কিংবা সেরকম কিছু সময় অবস্থান করেছে।

যে সাত শ্রেণির মানুষকে কবরে কোনো প্রশ্ন করা হবে না !

মহান আল্লাহর অনুগ্রহে কিছু মানুষ এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন যে, তাকে কবরদেশে সুওয়াল জাওয়াবের সম্মুখীন হতে হবে না। এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারীদের মধ্যে …

প্রথমে আসবে শহিদদের নাম। রাসুলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, শহিদদেরকে কবরে প্রশ্ন করা হবে না। কেননা মাথায় তরবারির আঘাত কবরের বিপদ হতে কম নয়। যদি তার অমত্মরে আল্লাহর ভয় না থেকে মুনাফেকি থাকতো তাহলে সে তরবারির ভয়ে পালিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু সে এমনটি করেনি। কাজেই প্রমাণিত হলো, সে তার ঈমানের ক্ষেত্রে সত্যিই মুখলিস বা নিষ্ঠাবান ছিলো।

দ্বিতীয় ব্যক্তি হলো, সীমান্তরক্ষী সৈনিক; যাকে প্রতিনিয়ত শত্রুদলের সঙ্গে সংগ্রাম ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যেতে হয়। এ ব্যক্তির আলোচনা কুরআনে কারিমেও এসেছে, হাদিসে রাসুলের মাঝেও এসেছে। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন,

يَاأَيُّهَاالَّذِينَآمَنُواْاصْبِرُواْوَصَابِرُواْوَرَابِطُواْ

তৃতীয় ব্যক্তি হলো, যিনি মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, কেননা সহিহ হাদিসের ভাষ্যমতে সেও শহিদদের মিছিলের একজন।

চতুর্থ ব্যক্তি হলো, আপাদমস্তক আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর সত্যনিষ্ঠ আস্থা ও বিশ্বাসের অধিকারী সত্যবাদী সিদ্দিক। যাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কোথাও মিথ্যার লেশমাত্র নেই। নবিদের পরই তাঁদের স্থান। ইমাম তিরমিযি ও ইমাম কুরতুবি [রহ.] এভাবে সুস্পষ্ট বর্ণনা করেছেন। উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে অকাট্যভাবে প্রতিভাত হয় যে, আল্লাহর প্রেরীত সকল নবি রাসুলও কবরে সুওয়াল জাওয়াবের সম্মুখীন হবেন না। কেননা তাঁদের স্থান তো সিদ্দিক থেকে কত সহস্র ঊর্ধ্বে।

পঞ্চম ব্যক্তি হলো, অপ্রাপ্ত বয়সে কোনো শিশু মারা গেলে তাকে সুওয়ালের সম্মুখীন হতে হবে না। প্রখ্যাত আকাইদবিদ আল্লামা নাসাফি [রহ.] দৃঢ়তার সঙ্গে বিষয়টি ব্যক্ত করেছেন।

ইমাম নববি [রহ.]ও অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইবনে সালাহ [রহ.] বলেন, শিশু মারা গেলে তাকে কালিমায়ে শাহাদাতের তালকিন করার দরকার নেই।

আর পাগল ও বোকা লোকদের কবরে সুওয়াল জওয়াব করা হবে কিনা এ বিষয়ে ইমাম ফাকেহানি [রহ.] মৌনতা অবলম্বন করেছেন। তদ্রুপ যে ব্যক্তি দুই নবির পৃথিবীতে আগমনের মধ্যবর্তী যুগে মারা গেছেন, তাকেও কবরে সুওয়াল করা হবে কিনা? এ বিষয়েও কোনো মত প্রকাশ করেননি। রওযা নামক কিতাবে এ বর্ণনা এসেছে, যে ব্যক্তি শরিয়তের দৃষ্টিতে মুকাল্লাফ [যার ওপর শরিয়তের হুকুম-আহকাম বর্তিত হয়] বা তার সমগোত্রীয়, একমাত্র তাকে সুওয়াল করা হবে। এছাড়া অন্য কাউকে নয়।

ষষ্ঠ ব্যক্তি হলো, ওই ব্যক্তি যে জুমার দিনে বা রাতে মারা যাবে তাকেও কবরে সুওয়াল করা হবে না। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার ফজিলত সম্পর্কিত একটি হাদিসে তা উল্লেখ করেছেন।উক্ত হাদিসটিকে ইমাম তিরমিযি ও ইমাম বাইহাকি [রহ.] হাসান স্তরের হাদিস রূপে অভিহিত করেছেন এবং বিভিন্ন সনদে তার স্বপ্ন শাহিদ রেওয়ায়েতও পেশ করেছেন।

সপ্তম ব্যক্তি হলো, যে প্রতি রাতে আল্লাহর রহমত প্রাপ্তির প্রত্যাশায় সুরা তাবারাকাল্লাযি তিলাওয়াত করবে।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 27 - Rating 5 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)