যে আমলটি করলে একটি রোজা রাখার সওয়াব পাবেন

ইসলামিক শিক্ষা 10th Jun 17 at 12:25pm 996
Googleplus Pint
যে আমলটি করলে একটি রোজা রাখার সওয়াব পাবেন

রমজান মাস বরকতের একটি মাস। তাই প্রত্যেকটি কাজে আমলে বরকত আর বরকত। রমজান মাসে অল্প আমলে বেশী সওয়াব অর্জন করার অনেক গুলো সুযোগ আল্লাহ্ পাক করে দিয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হল ইফতারী করানো।

রাসুল (স:) এরশাদ করেন অর্থ:- যে ব্যাক্তি কোন রোজাদারকে ইফতার করায় এটা তার মাগফেরাত বা ক্ষমা পাওয়ার ওছিলা হবে। এটা তার জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার ওছিলা হবে। এই ইফতার করানো দ্বারা আল্লাহ্ পাক তাকে ঐ রোজাদারের রোজার সমতুল্য সওয়াব দান করবেন। এতে ঐ রোজাদারের সওয়াব কমানো হবেনা। যিনি ইফতার করাবেন আল্লাহ্ পাক তাকে নিজের ভান্ডার থেকে ঐ রোজাদারের রোজার সম পরিমান সওয়াব দান করবেন।

সাহাবায়ে কেরাম (রা:) আরজ করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ ইফতার করানোর মতো সঙ্গতি / সামর্থ আমাদের নেই। নবী (স:) বললেন ! একটা খুরমা খাওয়ালে বা এক ঢোক পানি পান করালে বা এক চুমুক দুধ পান করালেও এই সওয়াব পাওয়া যাবে। চিন্তা করে দেখুন রমজানের একটা রোজার সওয়াব কত? কেউ যদি সারা জিন্দেগী নফল রোজা রাখে একটা ফরজ রোজার সমতুল্য হয় না। অথচ একজন রোজাদারকে ইফতার করালে আল্লাহ্ পাক এই পরিমান সওয়াব দিয়ে দেন।

সুবহানাল্লাহ। এ সওয়াবটি লাভ করতে এই আমলটি আজই শুরু করুন।

এই হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে অর্থ:- যে ব্যাক্তি কোন রোজাদারকে তৃপ্তি সহকারে খাওয়াবে অর্থাৎ ইফতারী করাবেন আল্লাহ্ পাক এর বদলতে কিয়ামতের ময়দানে আমার হাউজে কাওসার থেকে তাকে শরবত পান করাবেন। এই হাউজে কাওসার থেকে শরবত পান করার পর জান্নাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আর তার পানির পীপাসা লাগবে না। তাই ইফতার করানো অনেক বড় সওয়াবের কাজ। তাই রোজাদারকে নিজের বাসায় ডেকে এনেও ইফতার করানো যায়। শুধু বাড়ীতে দাওয়াত দিয়ে এনেই ইফতার করাতে হবে তা জরুরী নয়। যে ভাবেই হোক ইফতার করাতে পারলেই সওয়াব।

কত চমৎকার! কত সুন্দর ব্যবস্থা। একজনে সারা দিন কষ্ট করে না খেয়ে রোজা রাখে আর একজনে সন্ধাবেলা তাকে একটা খেজুর বা এক ঢোক দুধ বা একটু শরবত পান করিয়ে উক্ত রোজাদারের সমান সওয়াবের অধিকারী হয়ে যায়। তার গুনাহ মাফ হয়ে যায়। সাথে সাথে জাহান্নাম থেকেও মুক্তি লাভ করে। অথচ যে রোজা রেখেছে তার সওয়াব বিন্দুমাত্র কমে না।

দুনিয়ার মানুষ বাহানা তালাশ করে না দেওয়ার জন্য। আর আল্লাহ্ বাহানা তালাশ করে দেওয়ার জন্য।

ওদের উচিৎ রোজা রাখার পাশাপাশি অপর রোজাদারকে ইফতার করাবারও একটা বাজেট নির্ধারন করা এবং এ কাজে প্রতিযোগীতা করে একে অপরের আগে যাওয়ার চেষ্টা করা।

কেননা নেক কাজে প্রতিযোগীতা করা কেবল জায়েজই নয় বরং তার হুকুম দেয়া হয়েছে।

রাসুল (স:) এরশাদ করেন অর্থ:- তোমরা নেক কাজে প্রতিযোগীতা করে অগ্রসর হও।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 31 - Rating 5 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)