রহমতের দশ দিন শেষে আজ থেকে শুরু মাগফেরাতের দশ দিন

ইসলামিক শিক্ষা 7th Jun 17 at 1:32pm 404
Googleplus Pint
রহমতের দশ দিন শেষে আজ থেকে শুরু মাগফেরাতের দশ দিন

রোজা ফারসি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে দিন। যেহেতু এই আমলটি দিনের শুরু থেকে শেষাংশ পর্যন্ত পালন করা হয় তাই একে রোজা বলা হয়।

আর আরবিতে এর নাম সাওম। যার শাব্দিক অর্থ কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা।

সিয়াম সাধনার মাস রমজান মাস। পবিত্র মাহে রমজান মাসের ত্রিশ দিন তিন ভাগে ভাগ করে মহানবী (সঃ) বলেছিলেন, মাহে রমজানের প্রথম দশ দিন রহমতের, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফেরাতের এবং তৃতীয় দশ দিন হলো জাহান্নাম থেকে নাজাত লাভের।

রহমতের দশ দিন শেষে আজ থেকে শুরু হয়েছে মাগফেরাতের দশ দিন। এই দশ দিনে আল্লাহ পাক মানুষের অনেক অনেক গুনাহ মাফ করেন।

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহকে স্মরণকারী ব্যক্তিদের রমজান মাসে ক্ষমা করা হয়। আর আল্লাহ তা‘য়ালার দরবারে প্রার্থনাকারী ব্যক্তি বঞ্চিত হন না।’

অন্য এক হাদিসে পাকে রাহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মোহাম্মদ (দ.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণকে আদেশ দেন, তোমাদের কাজ, তোমাদের ইবাদত বন্ধ রাখ এবং সিয়াম পালনকারীদের দোয়ার সময় আমীন আমীন বলতে থাক।

ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.) রমজান মাসের রোজার গুরুত্ব বুঝাতে ইরশাদ করেছেন, ‘যদি কোনো মানুষ সারাজীবন সিয়াম সাধনা করে তবুও পবিত্র রমজানুল মোবারকের ফজিলত পাবে না। মাহে রমজানের রোজা না থাকার ক্ষতি কোন অবস্থাতেই পূরণ হবে না।’

শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি অর্জনের জন্য যে অপূর্ব সুযোগ এনে দেয় এই একাধারে সিয়াম সাধনা, মানুষকে বেহেস্তি সওগাত লাভের উপযুক্ত করে তুলে। সর্বোপরি আল্লাহ পাকের নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয় রমজানের রোজা।

কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফেলতীতে যদি রমজানুল মোবারকের অতুলনীয় বরকতপূর্ণ মুহূর্তগুলো আমাদের কাছে হারিয়ে যায়, তবে তা হবে দুর্ভাগ্য ও এক অমার্জনীয় অপরাধ।

হযরত ইমাম নখরী (র.) বলেছেন, যদি কোন মুসলিম শরীয়ত সম্মত ওজর ব্যতীত সিয়াম পালন না করে, পরে এক হাজার বছর রোজা থাকলে তবুও মাহে রমজানের রোজার ক্ষতিপূরণ হবে না।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 28 - Rating 4 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)