রাসায়নিক পণ্য ব্যবহারের পর চুলের যত্ন

রূপচর্চা/বিউটি-টিপস 2nd Jun 17 at 10:36am 267
Googleplus Pint
রাসায়নিক পণ্য ব্যবহারের পর চুলের যত্ন

বিশেষ দিনে চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে নানান ধরনের প্রসাধনী ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। পরে এসব রাসায়নিক পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে চুলের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

বিয়ে বা এই ধরনের কোনো অনুষ্ঠানে চুল সাজাতে গিয়ে নানান ধরনের রাসায়নিক পণ্য ব্যবহার করা হয় যা চুলের জন্য ক্ষতিকারক। রূপচর্চাবিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে চুল সজ্জায় রাসায়নিক পণ্য ব্যবহারের পর করণীয় সম্পর্কে জানা যায়।

জট ছাড়ানো: চুল আঁটসাঁট রাখার জন্য অনেক পরিমাণে হেয়ার ক্রিম, মুস, স্প্রে, ক্লিপ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। পরে ক্লিপ ও ব্যান্ড খুলতে গেলে চুল দেখতে পাখির বাসার মতো মনে হয়।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো উপায় হল নিচের দিক থেকে শুরু করা। প্রথমে চুলের নিচের অংশের ক্লিপ ও ব্যান্ড খুলে নিন এবং ধীরে ধীরে উপরের অংশের ক্লিপগুলো খুলে ফেলুন।

কেশ সাজানোর প্রসাধনী ব্যবহারে চুলে জট পড়ে ও শক্ত হয়ে থাকে। তাই মোটা দাঁতের চিরুনির সাহায্যে চুলের আগা থেকে জট ছাড়ানো শুরু করুন এবং পরে মাথার উপরের অংশের জট ছাড়িয়ে নিন। এই পদ্ধতিতে কোনো রকম ব্যথা ও চুলের ক্ষতি ছাড়াই চুল আঁচড়াতে পারবেন।

মসৃণ ও কোমল চুলের জন্য: চুল আঁচড়ানোর পরে তেল ব্যবহার করুন। চুলে ব্যবহৃত নানান রকমের প্রসাধনীর রাসায়নিক উপাদানের ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে তেল বেশ কার্যকর।

ভিন্ন ভিন্ন তেল চুলের ভিন্ন ভিন্ন উপকারে আসে। ভালো ফলাফলের জন্য কয়েকটি তেল একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

জলপাইয়ের তেল, নারিকেল তেল, ক্যাস্টর অয়েল, তিল এবং কাঠবাদাম তেল- একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুল মসৃণ, শক্তিশালী, কোমল করে। পাশাপাশি চুলের ক্ষতি কমিয়ে এনে মেরামত করতে সাহায্য করে। এসব তেল চুলকে গোড়া থেকে শক্ত, সুস্থ ও ঘন করে তোলে এবং মাথার ত্বক ঠাণ্ডা রাখে।

চুল পরিষ্কার করা: চুল গভীর থেকে পরিষ্কার করে এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল ধুয়ে নিন।

'ক্ল্যারিফায়িং শ্যাম্পু' ব্যবহার করে চুল ধোয়ার মাধ্যমে চুলের গোড়ায় জমে থাকা সকল অনমনীয় উপাদান পরিষ্কার হয়ে যায় যা অন্যান্য সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহারে যায় না।

হালকা গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়া হলে তা খুব সহজেই রাসায়নিক উপাদান পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। মাথার ত্বকে আঙুলের সাহায্যে আলতোভাবে মালিশ করে নিন এবং নিশ্চিত হয়ে নিন যে ভালোভাবে শ্যাম্পু পরিষ্কার হয়েছে।

এরপরও যদি মাথায় কোনো প্রসাধনী থেকে যায় তাহলে হালকা কোনো শ্যাম্পু ব্যবহার করে চুল পরিষ্কার করে নিন।

কন্ডিশনার ব্যবহার করা: চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য উন্নত মানের কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। 'প্রোটিন-ট্রিটমেন্ট কন্ডিশনার' ব্যবহারের মাধ্যমে চুলের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ও ঘনত্ব ধরে রাখা সম্ভব। চুলে সঠিকভাবে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে চুলের আগা পর্যন্ত ভালোভাবে কন্ডিশনার মালিশ করে নিন।

তাপ প্রয়োগে বিরত থাকা: চুলে স্টাইল করতে গরম কোনো পণ্য যেমন- 'ড্রায়ার', 'স্ট্রেইটনার', 'কার্লিং আয়রন' ইত্যাদি ব্যবহার করা উচিত না। তাপ চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট করে ফেলে, ড্রায়ার ব্যবহার করে চুল শুকানো হলে তা চুলকে কোঁকড়া ও দুর্বল করে দেয়।

এছাড়াও চুলে অ্যালকোহল সমৃদ্ধ পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয় এটাও চুলকে শুষ্ক করে ফেলে। যদি কোনো কারণে চুলে তাপ প্রয়োগকারী পণ্য ব্যবহারের প্রয়োজন হয় তাহলে আগে তাপ নিরোধক স্প্রে বা ক্রিম ব্যবহার করে নিন।

চুলের জন্য ডায়েট: সুস্থ ও উজ্জ্বল চুলের জন্য প্রোটিন খুব ভালো। লৌহ এবং বায়োটিন চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। ভিটামিন মাথার ত্বক সুস্থ রাখে। ওমেগা-থ্রি চুলকে আর্দ্র রাখে। জিংক এবং সেলেনিয়াম চুল পড়া ও শুষ্কতা কমায়। চুলের সুস্থতায় এই সকল উপাদান সম্পন্ন খাবার খান।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 25 - Rating 5 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)