লিভারের অসুখ হলে কী করবেন

সাস্থ্যকথা/হেলথ-টিপস 21st May 17 at 6:26pm 153
Googleplus Pint
লিভারের অসুখ হলে কী করবেন

শরীরের লিভার বা যকৃত অসুস্থ হয়ে পড়লে সেক্ষেত্রে কী করা উচিত। জানাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব।

লিভার শরীরের সর্ববৃহৎ অঙ্গ। আকৃতিতে যেমন বৃহৎ, প্রয়োজনীয়তার দিক থেকেও এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। শরীরকে সুখে রাখতে দরকার সুস্থ লিভার। অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত লিভার শুধু স্বাস্থ্যহানিই নয়, জীবনহানিরও কারণ হতে পারে।

লিভারের যত রোগ
লিভার কিছু বংশগত অথবা কিছু অর্জিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। রোগগুলো স্বল্পস্থায়ী আবার কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে চিকিৎসা করা সত্ত্বেও জটিল থেকে জটিলতর আকার ধারণ করতে পারে।

হেপাটাইটিস বা লিভারে প্রদাহ বিশ্বজুড়ে লিভারের প্রধান রোগ। নানা কারণে এই প্রদাহ হতে পারে। যার অন্যতম কারণ এ, বি, সি, ডি, ই নামক হেপাটাইটিস ভাইরাস। পানি ও খাবারের মাধ্যমে সংক্রমিত হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাস লিভারে একিউট হেপাটাইটিস বা স্বল্পস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরোপুরি সেরে যায়। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস বি, সি ও ডি ভাইরাস। ভাইরাস ছাড়াও অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান, লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা হওয়া, বিভিন্ন ড্রাগ ও কেমিক্যালস হেপাটাইটিস করে থাকে। অটোইমিউন হেপাটাইটিস, উইলসন্স ডিজিজসহ বিভিন্ন অজানা কারণজনিত রোগ ও বংশগত রোগে লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।

যে কারণেই প্রদাহ সৃষ্টি হোক না কেন, দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক হেপাটাইটিস বছরের পর বছর চলতে থাকলে লিভারের কোষগুলো মরে যায়। অকার্যকর ও অপ্রয়োজনীয় ফাইব্রাস টিস্যু সে স্থান দখল করে জন্ম দেয় সিরোসিস নামক মারাত্মক রোগ। সিরোসিস হলে লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। আমাদের দেশে হেপাটাইটিস বি এবং সি সংক্রমণই লিভার সিরোসিসের প্রধান কারণ। আমাদের দেশে অতিরিক্ত মদ বা অ্যালকোহল পানজনিত হেপাটাইটিস সিরোসিসের দ্বিতীয় প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী। ডায়াবেটিস, রক্তের চর্বির উচ্চমাত্রা প্রভৃতি কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মতো লিভারেও ফ্যাট জমে হয় ফ্যাটি লিভার। ইদানীং ফ্যাটি লিভার, লিভারের সিরোসিসের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ব্যাকটেরিয়া এবং প্যারাসাইট লিভারে অ্যাবসেস বা ফোঁড়া তৈরি করতে পারে। সর্বোপরি প্রাণঘাতী ক্যান্সারও ভর করতে পারে লিভারে। সিরোসিস যাদের হয় তাদের ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।

হেপাটাইটিস ভাইরাস যেভাবে ছড়ায়
দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে হেপাটাইটিস এ ও ই ছড়ায়। শহরে পানি সরবরাহ লাইনে ভাইরাসের সংক্রমণ হয়ে জন্ডিস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও নতুন কিছু নয়। তাই ফুটিয়ে পানি খাওয়া আর বেছে-বুঝে খাবার খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এতে শুধু হেপাটাইটিস এ এবং ই নয় টাইফয়েড আর ডায়রিয়ার মতো আরও অনেক পানিবাহিত রোগ থেকে বাঁচা যাবে।

দূষিত রক্ত গ্রহণ বা দূষিত সিরিজ ব্যবহারের মাধ্যমে অনেকেই নিজের অজান্তে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। একই শেভিং রেজার, বেল্গড কিংবা ক্ষুর ব্যবহারের মাধ্যমে এ দুটি ভাইরাস ছড়াতে পারে। হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত মায়ের সন্তানের জন্মের পরপর বি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৯০ ভাগ। তবে মায়ের দুধের মাধ্যমে বি ভাইরাস ছড়ায় না। সামাজিক মেলামেশা যেমন হ্যান্ডশেক বা কোলাকুলি এবং রোগীর ব্যবহার্য সামগ্রী যেমন গল্গাস জামাকাপড় ইত্যাদির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায় না।

যেভাবে বুঝবেন আপনার হেপাটাইটিস হয়েছে কি-না
একিউট হেপাটাইটিসে ক্ষুধামন্দা, শরীর ব্যথা, বমির ভাব কিংবা বমি এবং কিছুদিনের মধ্যে প্রস্রাবের রঙ ও চোখ হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এ সময় শরীরে চুলকানি দেখা দিতে পারে। জন্ডিস ক্রমে বেড়ে গিয়ে ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ক্রনিক হেপাটাইটিস বা সিরোসিসের প্রাথমিক পর্যায়ে বেশিরভাগ রোগীর উপসর্গ থাকে না বললেই চলে। কেউ কেউ দুর্বলতা, অবসন্নতা বা ক্ষুধামন্দা অনুভব করতে পারে। হেপাটাইটিস বি ও সি অনেকাংশই নিরাময়যোগ্য রোগ হলেও অ্যাডভ্যান্সড লিভার সিরোসিস অথবা লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত রোগী প্রায়ই কোনো শারীরিক অসুবিধা অনুভব করে না। এসব রোগীকে পেটে পানি জমে পেট ফুলে যেতে পারে, রক্তবমি বা কালো পায়খানা কিংবা অজ্ঞান হয়ে জীবনঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। এ সময় শরীর জীর্ণশীর্ণ হয়ে যায়। আমাদের দেশে অনেকে বিদেশে যাওয়ার প্রাক্কালে রক্ত পরীক্ষার সময়, কিংবা রক্ত দিতে গিয়ে বা ভ্যাকসিন দিতে গিয়ে অনেকেই হেপাটাইটিস বি ইনফেকশনের কথা প্রথম জানতে পারে।

লিভারের রোগ হলে যা করবেন
লিভারের রোগীর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে বা সন্দেহ হলে অথবা আপনার শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হলে দেরি না করে লিভার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত রোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভালো হয়ে যায়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জটিলতাও দেখা দিতে পারে। হেপাটাইটিস ই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৮ শতাংশ গর্ভবতী মা মারা যান, যখন শেষ তিন মাসের সময় মা তীব্রভাবে হেপাটাইটিস ই প্রদাহ

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 19 - Rating 5 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)