এই সূরা একবার পাঠ করলে দশবার কোরআন খতম করার নেকী হয় এবং সব গুনাহ মাফ হয় !

ইসলামিক শিক্ষা 21st May 17 at 8:20am 803
Googleplus Pint
এই সূরা একবার পাঠ করলে দশবার কোরআন খতম করার নেকী হয় এবং সব গুনাহ মাফ হয় !

এই সূরা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত লাভের প্রথম দিকে এবং হিজরতের বহু আগে মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর আয়াত সংখ্যা ৮৩, রুকু পাঁচটি। সুরাটিকে ‘কলবুল কোরআন’ বা কোরআনের অন্তঃকরণ বলা হয়। বাস্তবিকই এ সুরায় কোরআনিক শিক্ষার প্রাণবস্তু তাওহিদ, রিসালাত, হিদায়াত, নবুয়ত এবং ইহকাল ও পরকাল সম্পর্কে সারগর্ভ আলোচনা রয়েছে। ইয়াসিন শব্দের অর্থ ‘হে মানব’ মতান্তরে ‘হে মুহাম্মদ (সা.)’। হক বা সত্যের উন্নতি ও অগ্রগতি কখনো ব্যাহত হয় না।

হাদীস শরীফে রাসূল (সা:) বলেছেন, ‘সূরা ইয়াসিন কুরআনের হৃদয়। ’যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালের কল্যাণ লাভের জন্য পাঠ করবে তার মাগফিরাত হয়ে যায়।

তোমরা তোমাদের মৃতদের জন্য এ সূরা তিলাওয়াত করো। (রুহুলমায়ানি, মাজহারি)

ইমাম গাজ্জালী (রহ:) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সূরা ইয়াসিনকে কুরআনের হৃদয় এ কারণে বলা হয়েছে যে, ‘এ সূরায় কেয়ামত ও হাশর-নশর বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা ও অলঙ্কারসহকারে বর্ণিত হয়েছে। পরকালে বিশ্বাস ঈমানের এমন একটি মূলনীতি, যার ওপর মানুষের সব আমল ও আচরণের বিশুদ্ধতা নির্ভরশীল।

পরকালের ভয়ভীতি মানুষকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং অবৈধ বাসনা ও হারাম কাজ থেকে বিরত রাখে। তাই দেহের সুস্থতা যেমন অন্তরের সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল তেমনি ঈমানের সুস্থতা পরকালের চিন্তার ওপর নির্ভরশীল (রুহুলমায়ানি)।

তিরমিজী শরীফে উল্লেখ রয়েছে, সুরা ইয়াছিন একবার পাঠ করলে দশবার কোরআন খতম করার নেকী হয় এবং পাঠকের সব গুনাহ মাফ হয়। হাদীসে আরো বলা হয়েছে, রাতে সুরা ইয়াছিন পাঠ করলে নিস্পাপ অবস্থায় ঘুম থেকে উঠা যায় এবং পূর্বের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। যে ব্যক্তি সুরা ইয়াছিন বেশী বেশী পড়ে থাকে কেয়ামতের দিন এই সুরাই তার জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে। নবী করিম (সাঃ) আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত সুরা ইয়াছিন পাঠ করবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খোলা থাকবে।

হজরত আবু যর (রা:) বলেন, আমি রাসূল সা:-এর কাছ থেকে শুনেছি তিনি বলেছেন, মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তির কাছে সূরা ইয়াসিন পাঠ করলে তার মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ হয়ে যায়। (মাজহারি)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রা: বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন অভাব-অনটনের সময় পাঠ করে তাহলে তার অভাব দূর হয়, সংসারে শান্তি ও রিজিকে বরকত লাভ হয়। (মাজহারি)

ইয়াহইয়া ইবনে কাসীর বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত সুখে-স্বস্তিতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত শান্তিতে থাকবে (মাজহারি)।

এছাড়াও সূরা ইয়াসিনের বহু ফজিলত হাদিসে বর্ণিত আছে।

এ ছাড়া সুরা ইয়াসিন তিলাওয়াতের বহুবিধ উপকার ও ফায়দা রয়েছে।

যেকোনো সৎ উদ্দেশ্যে এ সুরা পাঠ করলে আল্লাহপাক পাঠকের মনোবাসনা পূর্ণ করে দেন।

বালা-মুসিবত ও রোগ-শোকে এ সুরা পাঠ করলে আল্লাহপাক মুক্তি দান করেন।

এ সুরা পাঠ করে ঘর থেকে বের হলে বাইরে থাকা অবস্থায় কোনো ধরনের বিপদের সম্মুখীন হবে না। রোগী বা বিপদগ্রস্তের গলায় এ সুরার লিখিত তাবিজ বেঁধে দিলে বিশেষ উপকার হয়।

পাগল ও জিনগ্রস্ত রোগীর প্রতি এ সুরা পাঠ করে ফুঁক দিলে রোগী অচিরেই রোগমুক্ত হয় এবং আরোগ্য লাভ করে।

সর্বদা সুরা ইয়াসিন পাঠ করলে বিচার দিনে এই সুরা আল্লাহপাকের কাছে পাঠকারীর মুক্তির জন্য সুপারিশ করবে।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 32 - Rating 5 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)