আসমানি কিতাবের পরিচয়

ইসলামিক জ্ঞান 7th May 17 at 3:06pm 972
Googleplus Pint
আসমানি কিতাবের পরিচয়

নবী-রাসূলগণ আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে যেসব কিতাব বা গ্রন্থ লাভ করেছেন সেসব ধর্মগ্রন্থকে আসমানি কিতাব বলা হয়। আল্লাহ্তায়ালা অনেক নবীর উপর আসমানী কিতাব প্রেরণ করেছেন। যেন নবীরা আল্লাহ্ প্রদত্ত এলেম মানুষকে শিক্ষা দিতে পারেন। তার মধ্যে চারটি কিতাব প্রসিদ্ধ। যেমন হযরত দাউদ য়ালাইহিস সাল্লামের উপর যাবুর, হযরত মূসা য়ালাইহিস সাল্লামের উপর তাওরাত, হযরত ঈসা য়ালাইহিস সাল্লামের উপর ইনজীল এবং হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের উপর কুরআন শরীফ নাযিল হয়।

এছাড়া আরো অনেক নবীর উপর ছোট ছোট কিতাব বা সহীফা নাযিল হয়। আমরা সকল আসমানী কিতাবের উপর দৃঢ় ঈমান রাখি। কুরআন হলো আল্লাহ্তায়ালা প্রেরিত পূর্বের সমস্ত কিতাবের সমর্থক এবং বর্তমানে আল্লাহ্তায়ালার একমাত্র মনোনীত আসমানী কিতাব। পূর্বের সমস্ত কিতাবের কার্যকারিতা আল্লাহ্তায়ালা বন্ধ করে দিয়েছেন। কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের হেদায়েতের কিতাব হলো এই কুরআন। এই কিতাব সম্পর্কে আল্লাহ্তায়ালা বলেন,

ذَٰلِكَ ٱلۡكِتَٰبُ لَا رَيۡبَۛ فِيهِۛ هُدٗى لِّلۡمُتَّقِينَ

"এ সেই কিতাব, যাতে কোন সন্দেহ নেই। যারা আল্লাহ্তায়ালাকে ভয় করে এ কিতাব কেবল তাদের জন্যই পথ প্রদর্শক"। (সূরা বাকারা, আয়াতঃ ২) অর্থাৎ সেসব ঈমানদার ব্যক্তি যারা নামায কায়েম করে, আল্লাহ্-র রাস্তায় খরচ করে এবং যারা রসূল (সাঃ) এর উপর নাযিলকৃত কোরআন এবং পূর্বের নবীগণের উপর নাযিলকৃত কিতাবসমূহে দৃঢ় ঈমান রাখে, এবং আখিরাতে যারা দৃঢ় বিশ্বাসী।

অন্য আয়াতে এই মর্মে আরো ইরশাদ হয়েছে, রাসূল, তার প্রতি তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। তাদের সকলেই আল্লাহ্, তার ফেরেশতাগণ, তার কিতাবসমূহ এবং তার রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনায়ন করেছেন। (সুরা বাকারা, ২ : ২৮৫)

এইকভাবে আরো বহু আয়াতে এ কথা বিবৃত হয়েছে যে, সত্যিকার ঈমানদার হতে হলে কুরআন মাজিদ এবং পূর্ববর্তী সকল আসমানি কিতাবের উপর ঈমান আনা আবশ্যক।

আসমানি কিতাবসমূহের উপর ঈমান তাৎপর্য হলো- এ কথা বিশ্বাস করা যে, এগুলো আল্লাহর পক্ষ হতে নাজিলকৃত আসমানি কিতাব। বিভিন্ন যুগে বসবাসকারী মানব জাতির হেদায়েতের জন্য আল্লাহ্ তাআলা বিভিন্ন নবীর প্রতি এ কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন।

আর সর্বশেষ আসমানি গ্রন্থ আল-কুরআনের উপর ঈমান আনার মর্ম হচ্ছে- এর মধ্যে যত হুকুম-আহকাম বা বিধি-বিধান রয়েছে তা মনেপ্রাণে স্বীকার করা এবং এ কথা বিশ্বাস করা যে, এই কিতাব আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানি কিতাব।

এ কিতাব নাজিল হওয়ার পর অন্যান্য আসমানি কিতাবের উপর আমল করা রাহিত হয়ে গেছে। কারণ পূর্বে যেসব কিতাব নাজিল করা হয়েছে তা যেমনিভাব রাহিত ঠিক তেমনি বিকৃতও বটে। কিন্তু একমাত্র কুরআন মাজিদের বিষয়টি স্বতন্ত্র।

কুরআন এক শাশ্বত চিরন্তন কিতাব। সর্বকালের সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য এ কুরআন সমভাবে প্রযোজ্য।

আসমানি কিতাবের সংখ্যা কতটি- এই বিষয়টি নিয়ে কিছুটা মতাপার্থক্য রয়েছে। আল্লাহর প্রেরিত আসমানি কিতাবের সংখ্যা একশত চারটি। এর মাঝে ১. তাওরাত। ২. জবূর। ৩. ইনজিল। ৪. কুরআন- এ চারটি আসমানি কিতাব বড় বা বিখ্যাত। বাকি আরো যত ছোট বা অখ্যাত আসমানি কিতাব রয়েছে তাকে সহিফা বলা হয়।

কুরআন শরীফে প্রথমোক্ত তিনখানা কিতাবেরর কথা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া আল-কুরআনে সহিফার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, এত আছে পূর্ববর্তী গ্রন্থে; ইরবাহিম ও মূসার গ্রন্থে। (সূরা আলা, ১৮-১৯) অপর এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের অবশ্যই এর উল্লেখ আছে। (সূরা শুআরা, ১৯৬)

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 54 - Rating 5 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)