বাংলা প্রথম পত্র! অষ্টম শ্রেণি...

অনলাইনে পড়াশোনা 11th Mar 17 at 11:53pm 1,350
Googleplus Pint
বাংলা প্রথম পত্র! অষ্টম শ্রেণি...

সৃজনশীল প্রশ্ন-

পদ্য: প্রার্থনা-কায়কোবাদ। নম্র শিরে সুখের দিনে তোমারি মুখ লইব চিনি, দুখের রাতে নিখিল ধরা যেদিন করে বঞ্চনা তোমারে যেন না করি সংশয়।

(ক) ‘স্তুতি’ কথার অর্থ কী?

উত্তর: ‘স্তুতি’ কথার অর্থ প্রশংসা।

(খ) ‘তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে’- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর : ‘তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে’- বলতে কবি বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ শূন্য হাতে স্রষ্টার কাছে এসেছেন। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি কায়কোবাদ স্রষ্টার কাছে মনোবল প্রার্থনা করে বলেছেন, তিনি জানেন না, স্রষ্টারকে কিভাবে ভক্তি ও শ্রদ্ধা করতে হয়। তাঁর এমন কিছু নেই যা দিয়ে তিনি স্রষ্টার আরতি করবেন। তাই নিঃসম্বল অবস্থায়, সম্পূর্ণ শূন্য হাতে, তাঁর দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছেন।

(গ) উদ্দীপকের সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: উদ্দীপকের সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো সর্বাবস্থায় স্রষ্টার ওপর বিশ্বাস স্থাপন ও আÍসমর্পণ করা। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি কায়কোবাদ স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করে তাঁর উদ্দেশে প্রার্থনা জানিয়েছেন। কবি ভক্তি বা প্রশংসা করতে না জেনেও কেবল চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেন। দুঃখ-দারিদ্র্যে, বিপদে-আপদে অথবা কবি যখন অর্থ-সম্পদের মধ্যে থেকে সুখ সাগরে ডুবে ছিলেন, তখনো এক মুহূর্তের জন্যও তিনি স্রষ্টারকে ভুলে থাকেননি। কবির জীবনে মরণে, শয়নে-স্বপনে অর্থাৎ সব সময়ই এই স্রষ্টাই তাঁর একমাত্র ভরসাস্থল ও পথের সম্বল এ কথা তিনি প্রতিমুহূর্ত মনে রেখেছেন। উদ্দীপকেও স্রষ্টার মহিমার কথা স্মরণ করে কবি বলেছেন, সুখের দিন তিনি স্রষ্টাকে যেভাবে স্মরণ করবেন, তেমনি দুঃখের অমানিশায় যখন তিনি পতিত হবেন, তখনো যেন স্রষ্টার কর্মে কবি-হৃদয়ে কোনো দ্বিধা বা সংশয় না জন্মে, এ প্রার্থনাই তিনি করেন। আর এ দিকটিই ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

(ঘ) উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার একটি বিশেষ দিককে নির্দেশ করলেও সমগ্রভাব প্রকাশে সক্ষম নয়- যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার একটি বিশেষ দিক ‘স্রষ্টার আরাধনায় নিজেকে নিবেদন করা’- এই একটি মাত্র দিককে নির্দেশ করেছে। এ ছাড়া ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করে স্রষ্টার কাছে মনোবল প্রার্থনা করেছেন। কারণ, কবি জানেন, গাছে গাছে পাখি, সর্বদা স্রষ্টার গুণগানে আত্মহারা, বনে বনে ফুল-ফলও বিধাতাকে স্মরণ করছে। তাঁর দয়ায় জগতের সব কিছু চলছে। তাঁর কাছেই সবাই সাহায্য প্রার্থনা করে। তাঁর অপার করুণা লাভ করেই বিশ্বজগতের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণ ধারণ করে আছে।

তাঁর দয়া ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও চলতে পারি না। সুখে-দুঃখে, শয়নে-স্বপনে তিনিই আমাদের একমাত্র ভরসা। উদ্দীপকে কেবল বলা হয়েছে, সুখের দিনে আমরা যেমন বিনীতভাবে স্রষ্টার মহিমার কথা স্মরণ করব, দুঃখের রাতেও তেমনি তাঁর অপার মহিমার কথা নির্দ্বিধায় স্মরণ করব। উপযুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়, ‘প্রার্থনা’ কবিতায় উপযুক্ত দিক উদ্দীপকে উঠে আসেনি বলে উদ্দীপকটি সমগ্রভাব প্রকাশে সক্ষম হয়নি।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 58 - Rating 5 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)