সকাল ৬টায় জেগে ওঠার ৬ কারণ

লাইফ স্টাইল 23rd Feb 17 at 8:46am 428
Googleplus Pint
সকাল ৬টায় জেগে ওঠার ৬ কারণ

অনেকেই জীবনের উন্নতির সঙ্গে সকালে ঘুম থেকে ওঠার বিষয়টিকে উল্লেখ করেন। ব্লগার এগহোসা আহহাই ২ বছর ধরে সকাল ৬ টায় বিছানা ছাড়েন এবং তিনি দাবী করেন, এই অভ্যাস তার জীবন বদলে দিয়েছে।

এগহোসা ৬টি কারণ দেখিয়ে সকালে জেগে উঠার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন। সুফল সম্পর্কে জেনে আপনিও হতে পারেন ভোরের পাখি।

* লুকানো নিজেকে আবিষ্কারের সময় পাওয়া যায় : অনেকেই নিজের লক্ষ্য বা উদ্দ্যেশের কেন্দ্রবিন্দু ঠিক করতে পারেন না বলে তারা লক্ষ্য পূরণ করতে পারেন না। আপনি সহজেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবেন যদি না আপনি দ্রুত চিন্তা করতে না পারেন যে, জরুরিভাবে কোনটি আপনার আগে করা প্রয়োজন।

এটা সবারই জানা যে, মানুষের মস্তিষ্ক দিনের প্রথমভাগে বেশি কাজ করে। তাই এই সময়টা ব্যবহার করুন আপনার জীবনকে নিয়ন্ত্রণে নিতে।

* দিনের কর্মসূচি তৈরির সময় পাওয়া যায় : ভোরের পাখিরা কাজে যাওয়ার আগেই দিনের পরিকল্পনা করার সুযোগ পায়। যত আগে আপনার দিনের কমূসূচি তৈরি হয়ে যাবে, আপনি তত কার্যকরভাবে এবং লাভজনকভাবে দিনটি পার করতে পারবেন। আগামীদিন আপনি কি করবেন তা যদি বিকালে নির্ধারণ করেন তাহলে তা খুব একটা সুফল বয়ে আনবে না। কারণ দিনের শেষভাগে মস্তিষ্ক থাকে ক্লান্ত, যা বিশ্রামই নিতে চাইবে।

* আত্মোন্নতির জন্য সকালটাই উত্তম : কে বলেছে সকালে উঠেই অফিসের জন্য আপনাকে দৌড় ঝাপ করতে? অনেকেই বলেন তাদের কাছে পরিবার, বিনোদন, ব্যায়াম করার জন্য সময় নেই। কিন্তু আপনি যদি সকাল ৬টায় বিছানার মায়া ত্যাগ করতে পারেন তাহলে দিনের কাজ শুরু করার আগে ব্যায়াম করে নিতে পারেন। যখন আপনি সকালে ব্যায়াম করবেন তখন আপনার শরীর সারাদিন ঝরঝরে থাকবে।

* সকালে নাস্তা করার সুযোগ পাবেন : আপনি আপনার জীবনে অনেকবারই শুনেছেন যে, সকালের নাস্তা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। যদি কাজে যাবার কয়েক ঘণ্টা আগে ঘুম থেকে উঠেন, তাহলে আপনি নাস্তা করার সুযোগ পাবেন।

জন হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথ পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে সঠিকভাবে নাস্তা খাওয়া আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক। গাড়ির জন্য যেমন গ্যাস তেমনি শরীরের জন্য খাদ্য, বিশেষ করে সকালের।

* সফল ব্যক্তিরা ইতিমধ্যেই এটি রপ্ত করেছেন : নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনের একটি আর্টিকেলে টুইটার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি বলেন, তার দিন শুরু হয় সকাল ৫.৩০ এ। কর্মজীবন শুরু করার আগের এই সময়টা তিনি ব্যবহার করেন মেডিটেশন ও ১০ কিলোমিটার হেঁটে। অ্যাপলের সিইও টিম কুক, তার দিন শুরু হয় ৪. ৩০ এ। ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা রিচাড ব্যারেন্সন। তার দিন শুরু হয় সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে। ‘বিজনেস ইনসাইডার’ এ দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন ৫.৪৫ এ তিনি ঘুম থেকে উঠেন।

* আপনি সকলের চেয়ে দুই ধাপ এগিয়ে থাকবেন : গবেষকরা দেখিয়েছেন সকালে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস আপনার সৃষ্টিশীল ক্ষমতাকে ছড়িয়ে দিবে। তাছাড়া এটি আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। আপনি তখন কাজ শুরু করবেন যখন আপনার প্রতিপক্ষ ঘুমাচ্ছে।

ব্লগার এগহোসা আহহাই বলেন, ‘আগে আমি সকাল ৮টা পর্যন্ত ঘুমাতাম। এখন আমি আমার নতুন অভ্যাসে অনেক এনার্জি পাই এবং সারাদিন পর মনে হয় আমি আমার কাজ সঠিকভাবে করতে পেরেছি।’

আপনি যদি আপনার দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা আগে উঠার প্রশিক্ষণ নিজেকে দেন তাহলে আপনি প্রতিদিন ১৫০ মিনিট বেশি পাবেন। এবং সপ্তাহে সাড়ে ১৭ ঘণ্টা, মাসে ৭০ ঘণ্টার বেশি ও বছরে ৮৪০ ঘণ্টা বেশি পাবেন। এখন পছন্দ আপনার।

তথ্যসূত্র : লিফটার

Googleplus Pint
Mizu Ahmed
Manager
Like - Dislike Votes 22 - Rating 5 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)