সুবিধাবাদী বন্ধুদের চেনা ও দূরে রাখার উপায়!

লাইফ স্টাইল 6th Jan 17 at 10:54am 370
Googleplus Pint
সুবিধাবাদী বন্ধুদের চেনা ও দূরে রাখার উপায়!

জীবন চলার পথে আমরা অনেক লোকের সাথেই মেলামশা করি। অনেকের সাথে কাজের উদ্দেশে, কখনও স্কুলে পড়ালেখার উদ্দেশে, জিম সহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে মিশতে হয়। এভাবে অনেকেই আমাদের প্রকৃত বন্ধু হয়, আবার অনেকে সুবিধা নেয়ার জন্য বন্ধুত্ব করে! কিভাবে বুঝবেন কারা সুবিধা নেয়ার জন্য বন্ধুত্ব করছে আপনার সাথে? চলুন জানা যাক:

শুধুমাত্র প্রয়োজনের সময় মনে করে: কিছু বন্ধু আছে শুধু তখনই আপনার সাথে কথা বলে যখন কোনকিছুর প্রয়োজন পড়ে। তো এটি হচ্ছে প্রথম সংকেত যে, সে শুধু সুবিধা নেয়ার উদ্দেশে আছে। এমন বন্ধুকে কখনই বিপদের বন্ধু ভাববেন না। অর্থাৎ এরা বিপদের সময় আপনার পাশে নাও দাঁড়াতে পারে!

নিজস্ব লাভের জন্য আপনার বিশ্বাস ভাঙ্গা: বন্ধুত্বের ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস। যদি বিশ্বাস না থাকে তবে বন্ধুত্বে কোন সম্পর্ক থাকে না। আপনার কিছু বন্ধু থাকবে যাদের সাথে আপনার মনের কথা প্রকাশ করতে পারবেন এবং তারা প্রয়োজনের সময় সহায়তা করতে সচেষ্ট হবে। যদি তা না করে নিজের লাভের কথা চিন্তা করে বিশ্বাস ভঙ্গ করে, তবে এমন লোকের সাথে বন্ধুত্ব না করাই ভাল। মনে রাখবেন, যারা বিশ্বাস ভঙ্গ করে তাদের থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনার বন্ধুর সাথে কিন্তু আপনি নেই: আপনার বন্ধু মহলে নতুন কাউকে নিয়ে আসলেন। কিছুদিন পর দেখলেন সে বন্ধু আপনারই ঘনিষ্ঠ কারও সাথে অন্যত্র পার্টি দিয়েছে অথবা অন্য কোথাও দেখা-সাক্ষাত করছে কিন্তু আপনাকে বলেনি! এমন বন্ধুর উপর মোটেও ভরসা করবেন না।

উদ্দেশ লাভের পর না চেনার মত অবস্থা: যে বন্ধু শুধু সুবিধা লাভের উদ্দেশে আপনার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করছে তাকে চেনার সবথেকে ভাল ইঙ্গিত হচ্ছে এটি। উদ্দেশ হাসিল হবার পর আপনার প্রতি তার ব্যবহার পরিবর্তন হয়েছে। সে আর পূর্বের ন্যায় আপনাকে অনুভব করছে না। এমন হলে সাবধান হোন!

আপনার কথায় তার আগ্রহ না থাকা: আমরা সাধারণত কাছের বন্ধুকেই মনের কথা বলি। তাদের সাথে ভবিষ্যত পরিকল্পনা, লক্ষ্য ও তা প্রাপ্তির জন্য করণীয়, ভবিষ্যতের চিন্তা-ভাবনা ইত্যাদি শেয়ার করি। যদি দেখেন আপনার বন্ধু আপনার এসব কথায় কোনই আগ্রহ দেখাচ্ছে না, তবে বুঝবেন আপনার প্রতি তার প্রকৃত বন্ধুত্বের সম্পর্ক নেই। সে আপনার কাছে কিছু চায় অথবা কোনকিছু প্রাপ্তির উদ্দেশ আপনার কাছে আসছে।

যেভাবে দূরে রাখবেন

এমন নয় যে এ ধরনের বন্ধুদের দূরে রাখতে পারবেন না। তবে একটু কঠিনই হবে। তবুও নিম্নোক্ত কিছু উপায় অবলম্বন করতে পারেন:

কিছু ব্যস্ততা দেখান ও যৌক্তিকতাপূর্ণ কাজ নিন: কোন কাজে বা কোন কিছুতে সহায়তা চাওয়া মাত্রই সহায়তা করবেন না। কাজটির কিছু যৌক্তিকতা দেখতে চাইবেন। কিছুটা ব্যস্ততাও দেখাবেন। তারপর কাজটি করে দিবেন। জানি এটা আপনার স্বভাব নয়। কিন্তু এমনটা করতে আপনি বাধ্য। একটু বুঝতে চেষ্টা করুনতো, এমন বন্ধু আপনার জন্য কতটা প্রয়োজনীয়? সব সময় আপনি তার জন্য কাজ করেই যাবেন আর আপনার বিপদে তাকে পাবেন না। তো দরকার কী?

আপনার মনের কথা বলুন: আপনার বন্ধু আপনাকে না জানিয়ে অন্যত্র আপনারই কাছের কারও সাথে পার্টি দিচ্ছে! এমন হলে তাকে আপনার মনের কথা বলে দিন। বিষয়টা আপনার ভাল লাগছে না জানাবেন। তাকে পরবর্তীতে এমন না করার জন্য বলে দিবেন। যদি সংশোধন না হয় তবে বিদায় জানান।

সামনে চলুন: আপনি চাইলে নতুন বন্ধু খুঁজতে থাকুন অথবা সামনের দিকে এগিয়ে চলুন। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে, একে অপরের প্রতি অনুভব-অনুভূতি খুবই জরুরী। যদি এমনটা হয় তবে সেই বন্ধুত্ব ধরে রাখা ঠিক হবে না। বন্ধুত্বের মাঝে একতরফা লাভ পাওয়ার উদ্দেশ থাকলে তাকে আর ভাল বন্ধুত্ব বলা যায় না।

আরেকটি কথা, সকল এক তরফা বন্ধুত্ব মানেই যে তা খতম করতে হবে এমন নয়। আপনি চাইলে তাদের সাথেও সম্পর্ক বজায় রাখতে পারেন। তবে তার লাভ অর্জনের উদ্দেশটা যে আপনি বুঝতে পারেন সেটা পরোক্ষভাবে বোঝাবেন। প্রকৃত বন্ধু সর্বদাই আপনার ভাল চাইবে, প্রতিবারই নিজের লাভ খুঁজবে না।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 38 - Rating 5 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)