এমন এক সময় যখন বান্দাদের জন্য জান্নাতের দরজা একদম উন্মুক্ত রাখেন আল্লাহ !

ইসলামিক শিক্ষা 30th Dec 16 at 10:43am 1,444
Googleplus Pint
এমন এক সময় যখন বান্দাদের জন্য জান্নাতের দরজা একদম উন্মুক্ত রাখেন আল্লাহ !

মহান আল্লাহ তায়ালা শেষ বিচারের দিন অর্থ্যাৎ কিয়ামতের মাঠে নিজেই বিচারক হয়ে তার বান্দাদের বিচার করে জান্নাত ও জাহান্নামিদের আলাদা করবেন। যারা দুনিয়ায় ভালো কাজ করেছেন তারা জান্নাতি এবং যারা খারাপ কাজ করেছে তারা জাহান্নামি হবে। জান্নাতি ব্যক্তিদের জন্য জান্নাতের দরজা খুলে রাখা হবে। জান্নাতর দরজাগুলো থেকে তার যোগ্য ব্যক্তিদের আহ্বান করা হবে। জান্নাতের দরজা খুলে রাখা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ইহা হলো স্মরণীয় জিনিস এবং পরহেজগারদের জন্য সুন্দর আবাসস্থল। জান্নাতে আদন যার দরজাগুলো খোলা থাকবে। (সুরা সোয়াদ : আয়াত ৪৯-৫০)

হাদিসের বর্ণনা থেকে জানা যায়, নির্ধারিত কিছু দিন এবং বিশেষ কিছু সময়ে দুনিয়ার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়। সে সময় দুনিয়ায় বসেই মানুষজন জান্নাতি আবহ অনুভব করে থাকে।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলু্ল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘জান্নাতের দরজাগুলো সোমবার ও বৃহস্পতিবার খুলে দেয়া হয়। আর ওইসব বান্দাকে মাফ করে দেয়, যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করেনি। কিন্তু ওই ব্যক্তি ব্যতীত যে তার ভাইয়ের ও তার মাঝে শত্রুতা রাখে।’ (মুসলিম)

অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘যখন রমজান মাস প্রবেশ করে তখন জান্নাতের সব দরজা খুলে দেয়া হয় আর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।’ (বুখারি মুসলিম)

হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যখন পূর্ণভাবে ওজু শেষ করে অতঃপর বলবে– ‘আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আ’বদুহু ওয়া রাসুলুহু’; তখন তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হয়; সে যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসলিম)

পরিশেষে…

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ায় বেহেশতি পরশ লাভ করতে ওজুর পর কালিমা শাহাদাত পাঠ করার তাওফিক দান করুন। বারবার পবিত্র রমজান মাস দান করুন এবং প্রত্যেক সোমবার এবং বৃহস্পতিবার বেশি বেশি নেক আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

তবে দুটি বিশেষ কাজ যদি কেউ করার পর কোন ব্যক্তি যতই ভালো কাজ করুক কোন লাভ হবে না। অর্থ্যাৎ ওই ব্যক্তি জাহান্নামি হবেই। কাজদুটো হলো ঈমান না আনা ও শিরক করা।

জান্নাতে প্রবেশের প্রধান উপায় হলো: শাহাদাত অর্থাৎ একথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর সত্য কোন ইলাহ নেই, যিনি একক, যার কোন শরীক নেই। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। সুতরাং যে ব্যক্তি ইসলামের এ সাক্ষ্য প্রদান করবে, এর যাবতীয় আরকান পালন করবে, আর এক

অদ্বিতীয় আল্লাহর ইবাদাত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

‘‘যে ব্যক্তি এ কথার সাক্ষ্য দিবে যে, ‘এক অদ্বিতীয় আল্লাহ ছাড়া আর কোন প্রকৃত ইলাহ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল, ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং আল্লাহর কালেমা যাকে তিনি মারিয়ামের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে রূহ, আর জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য’। আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল যাই হোক না কেন’’। [বুখারী ও মুসলিম]

আল্লাহ বলেন: ‘‘নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর এ কথার উপর সুদৃঢ় থাকে। তাদের কোন ভয় ভীতি নেই, তাদের কোন চিন্তা নেই। তারাই জান্নাতবাসী,সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এ জান্নাত তারা তাদের কৃত কর্মের ফল স্বরূপ লাভ করবে”। [সূরা আল আহক্বাফ: ১৩-১৪]

আয়াতে উল্লেখিত الاستقامة শব্দটির অর্থ হল: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘জান্নাত পেতে আগ্রহী নয় এমন ব্যক্তি ছাড়া আমার সকল উম্মাতই জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কে এমন ব্যক্তি আছে যে জান্নাতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করবে সে জান্নাতে যাবে, আর যে আমার নাফরমানী করবে ও অবাধ্য হবে, সেই জান্নাতে যেতে অস্বীকার করে’’।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 33 - Rating 4 of 10

পাঠকের মন্তব্য (1)