সংঘর্ষমূলক পরিস্থিতি নিজের অনুকুলে নিয়ন্ত্রণের ৬টি কৌশল

লাইফ স্টাইল 10th Dec 16 at 12:59pm 316
Googleplus Pint
সংঘর্ষমূলক পরিস্থিতি নিজের অনুকুলে নিয়ন্ত্রণের ৬টি কৌশল

আপনি যদি ভদ্র লোক হন তাহলে সংঘর্ষ আপনার জন্য একটি সত্যিকার চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আপনি কীভাবে সংঘর্ষ হ্যান্ডেল করছেন তা নির্ধারণ করে দেয় আপনার সহকর্মীদের সঙ্গে আপনার কতটা পরিমাণ আস্থা, সম্মান এবং যোগাযোগ আছে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আপনি কীভাবে সংঘর্ষ হ্যান্ডেল করছেন তার ওপরই আপনার কর্মজীবন গড়ে ওঠা এবং ভেঙ্গে যাওয়া নির্ভর করে। এতে দেখা গেছে, যারা সংঘর্ষকালীন পরিস্থিতিতে আগ্রাসী হন তারা তাদের সহকর্মীদেরকে মর্মাহত এবং বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে নিজেদের কর্মজীবন ধ্বংস করেন। আর যারা সংঘর্ষের সময় অতি বেশি নিষ্ক্রিয় থাকেন তারা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর সক্ষমতায় বিঘ্ন ঘটান।

আর কার্যকরভাবে সংঘর্ষ হ্যান্ডেলের গোপন মন্ত্রটি হলো জাহিরপ্রবণতা। জাহিরপ্রবণ লোকেরা ইতিবাচকতা এবং আগ্রাসনের মধ্যে একটি সতর্ক ভারসাম্য স্থাপন করেন।

জাহিরপ্রবণতার সঙ্গে কীভাবে সংঘর্ষ হ্যান্ডেল করতে হয় এটা ভাবাটা সহজ যে, ভালো মানুষরা খুবই নিষ্ক্রিয় ধরনের হন। এটা হয়তো কখনো কখনো সত্যি। কিন্তু অবারিত নিষ্ক্রিয়তা আগ্রাসন হয়ে উথলে উঠতে পারে। এমন অসংখ্য ভালো মানুষ আছেন যারা জাহিরপ্রবণতার দুটি চরম দিকই প্রদর্শন করেছেন।

জাহিরপ্রবণ হওয়ার জন্য আপনাকে স্বাস্থ্যকর সংঘর্ষে জড়ানো শিখতে হবে। স্বাস্থ্যকর সংঘর্ষ সরাসরি এবং গঠনমূলকভাবে ইস্যুটিকে সম্বোধন করে। এবং উভয় পক্ষকে সন্তুষ্ট রেখেই এটা করা সম্ভব হয়।

১. নীরবতার প্রতিবিম্ব বিবেচনা করুন

অনেক সময় বাজে পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার ভয়ে উচুঁ স্বরে কথা বলা সম্ভব হয় না। তবে একেবারে নীরব থাকার চেয়ে বরং কিছুটা সমস্যায় জড়ানোও ভালো। কারণ নীরবতার কুফল আরো ভয়াবহ। আপনাকে শুধু জাহিরপ্রবণতার সঙ্গে সঙ্গে আসা মাথাব্যাথাটুকু থেকে দূরে থাকতে হবে।

২. “কিন্তু” না বলে “এবং” বলেন

“কিন্তু” শব্দটির জায়গায় “এবং” বলার সহজ কর্মটি সংঘাতকে আরো গঠনমূলক এবং সহযোগিতামূলক করে তোলে। উদারহণত, আপনার দলের সদস্য জন আপনার বাজেটের বেশিরভাগই বাজারজাতকরন প্রচারণা অভিযানে ব্যয় করতে চান। কিন্তু আপনি উদ্বিগ্ন যে এমনটা করলে গুরুত্বপূর্ণ কোনে নতুন লোককে আর নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে না।

এক্ষেত্রে আপনি, “আমি দেখছি যে আপনি সব অর্থই বাজারজাতকরনের জন্য ব্যয় করতে চাইছেন কিন্তু আমি মনে করি নতুন একজন লোককে নিয়োগের জন্য কিছু টাকা রাখা দরকার” এটা না বলে বলুন, “আমি দেখছি যে আপনি সব অর্থই বাজারজাতকরনের জন্য ব্যয় করতে চাইছেন এবং আমি মনে করি নতুন একজন লোককে নিয়োগের জন্যও কিছু টাকা রাখা দরকার।

পার্থক্যটি এখানে সুক্ষ্ম, কিন্তু প্রথম বাক্যটি তার ধারণার মূল্যকে খাটো করে। আর দ্বিতীয় বাক্যটি আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করে। এবং আপনার অপর পক্ষ আপনি তাদের সঙ্গে কাজ করছেন অনুভব করবে। আপনাকে তাদের বিরোধী মনে করবে না।

৩. অনুমানমূলক মন্তব্য ব্যবহার করুন

আপনি যখন নিজেকে জাহির করতে যাবেন, তখন এমন ভাব করবেন না যে আপনি তাদের ধারণায় ছিদ্র খুঁজছেন। অনুমানমূলক মন্তব্য ব্যবহার এ থেকে বেরিয়ে আসার যথাযথ উপায়। উদাহরণত কাউকে “আপনার নতুন পণ্যের ধারণাটি কাজে লাগবে না কারণ আপনি বিক্রয় দলটি কীভাবে কাজ করে তা উপেক্ষা করেছেন” এভাবে না বলে বরং বলুন, “আমাদের বিক্রয়কর্মীদের দল নতুন পণ্যটি বিক্রয় করার ব্যাপারে কী কৌশল অবলম্বন করবে বলে আপনার ধারণা?”

৪. চরমভাবে কিছু বলবেন না

কেউই কোনো কিছু সবসময় বা কখনো না করে না। লোকে নিজেদেরকে একমাত্রিকভাবে দেখেন না। সুতরাং আপনিও তাদেরকে সেভাবে সংজ্ঞায়িত করতে যাবেন না। চরমভাবে কিছু বললে লোকে আত্মরক্ষামূলক হয়ে ওঠে এবং আপনার বার্তার প্রতি মন বন্ধ করে রাখবে। তার চেয়ে বরং অপর পক্ষের লোকটি কী এমন করেছে যা আপনার জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে সেটা খুঁজে বের করুন। তিনি যদি প্রায় প্রায়ই বিশেষ কোনো আচরণ করেন তাহলে বলুন, “আমার মনে হচ্ছে যে, আপনি প্রায়ই একাজটি করেন। ” অথবা “আপনি এ কাজটি এমন বিরতিতে করছেন যা আমার নজরে পড়ার জন্য যথেষ্ট। ”

৫. বিষয়টির গভীরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভালো ভালো প্রশ্ন করে যান

কারো কোনো আচরণের পেছনের উদ্দেশ্য কী তা বুঝতে ব্যর্থ হলে তা সংঘাত আরো উস্কে দিতে পারে। কারণ এর ফলে তারা যা কিছুই করুক না কে তা বোকামি এবং অদূরদৃষ্টিসম্পন্ন বলে মনে হবে। ত্রুটি নির্দেশ না করে বরং অপর লোকটি কোথা থেকে এসেছেন। ভালো প্রশ্ন করার চেষ্টা করুন। যেমন, আপনি কেন কাজটি ওভাবে করলেন? আপনি এ দিয়ে কী বুঝিয়েছেন? আপনি কি আমাকে বিষয়টি আরো ভালোভাবে বুঝতে সহায়তা করবেন? কোনো তৎপরতার পেছনের উদ্দেশ্যটি কী তা বুঝার জন্য প্রশ্ন করলে আস্থা এবং বুঝাবুঝি তৈরি হয়।

৬. আপনি যখন চ্যালেঞ্জ করেন, সমাধানও প্রস্তাব করুন

লোকে কখনো এটা পছন্দ করবে না যখন আপনি তাদের ধারণা ব্যাট থেকে সরিয়ে নিতে চাইবেন। আপনি যখন কারো ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করবেন কিন্তু একটি সমাধানও প্রস্তাব করবেন তার মানে আপনি চাইছেন আপনি বিষয়টির সুরাহা করতে একসঙ্গে কাজ করতো আগ্রহী।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 10 - Rating 4 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)