JanaBD.ComLoginSign Up


একজন রামছাগল টুনা ও মহামতি টুই

ভালোবাসার গল্প 8th Nov 16 at 10:28am 2,955
Googleplus Pint
একজন রামছাগল টুনা ও মহামতি টুই

১।

টুইয়ের আজ মন খারাপ,যেনতেন মন খারাপ না,ভয়ঙ্কর রকমের মন খারাপ। এইমাত্র ভার্সিটি র হুল্লোড় বাদ দিয়ে,লক্কড় ঝক্কড় জ্যামের সাথে টক্কর দিয়ে বাসায় ফিরল,কই একটু আয়েশ করে বসার খায়েশ পুর্ন করবে,তা না মা তার আব্দার নিয়ে হুংকার দিতে দিতে হাজির।
'এত্ত বড় মেয়ে,ঘুরে ফিরে,কোনও চিন্তা নাই। আর আমি খাটতে খাটতে হাঁটতে পারিনা। এই রেডি থাকিস কাল বিকালে,টুনারা আসবে।আমি আগেই বলে রাখলাম তোকে।পরে নো হাঙ্কি পাঙ্কি।'
গড় গড় করে কথাগুলো বলে ফড় ফড় করে চলে যায় টুইয়ের মা। এটা কোন কথা হল,এই পিচ্চি টুইটাকে নাকি আবার এক টুনা দেখতে আসবে। টুই কে টুনা দেখতে আসবে,এটাই তো পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য। তাও এইটুকুন বয়সে। এইত কদিন আগেই কুড়ি পেরুনো টুইকে বুড়ি বানানোর চেষ্টায় যেন মা এবার পুরো আদাজল খেয়েই নেমেছেন। আঁতেল টুনা আবার ফটোশপ কেলেঙ্কারী মার্কা ছবিও পাঠিয়েছে। উফফ,কার্টুনেও মন বসাতে পারছেনা টুই। টম এন্ড জেরি যেন টুই আর টুনাময় হয়ে গেছে,একটা বিরাট ভুড়িওয়ালা টুনা পুচকা টুইয়ের পিছনে দৌড়াচ্ছে,আর সেই পুচকা টুইটা এদিক সেদিক পালাবার পথ খুঁজছে। নাহ,এবার আর পালাবার পথ নাই,আম্মিজান মাছ ধরতে ছাই হাতে নিয়েই মাঠে নেমেছেন,যতই পালাও টুই,ধরা তোমাকে দিতেই হবে । টুইকি এতই বড় হয়ে গেছে,আপনারাই বলেন? টুক টুক করে কার্টুন দেখতে দেখতে নাহয় একটু ভার্সিটিতেই উঠে গেছে,তাই কি বড় হয়ে গেল টুই। বুঝতেই পারেনা টুই,টুনাদের দেখার বয়স হয়ে গেল কবে। ইইইই,এটা মেনে নেওয়া যায়না,অবিলম্বে বিরোধিদলের প্রতি দমনমূলক নীতি গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয় টুই। বাবা আর ভাইয়াকে মৈত্রী কমিটিতে স্থান দিলেও ভাবীকে কোনমতেই ছাড় দেয়া যায়না। গভীর ষড়যন্ত্রে তৃতীয় পক্ষের হাত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা দরকার। কালক্ষেপন না করে তাড়াতাড়িই মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয় টুই, রাতের অন্ধকারেই 'অপারেশন টুনা ০০৭' শেষ করার ছক কষে ফেলে সে। আজ রাত আর কাল সারাদিন সময় আছে টুইয়ের হাতে,এমন প্লান করবে যেন এক চান্সেই মিশন কমপ্লিট হয়ে যায়।

২।

অপারেশনে নামার আগে যার বিরুদ্ধে এই ঢিশিয়া ঢিশিয়া রক্তক্ষয়ী মহাযুদ্ধ তার সম্পর্কে জেনে নেয়াই সমীচিন মনে হয় টুইয়ের কাছে। টুনা মহাশয় আবার মায়ের কাছে অফসেট পেপারে টাইপ করা বায়োডাটাও দিয়ে গেছে,ভাবটা এমন চাকরীর ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছে। বায়োডাটা রেখে যাওয়ার সময় আম্মাজানও কেমন যেন মুচকি মুচকি হাসছিলেন। আরে আম্মা কি আর জানে টুই যে তলে তলে মিশন ইম্পোসিবল ৫ এর চিত্রনাট্য লিখে ফেলেছে । নাম পড়েই বুকে মোচড় মারে টুইয়ের,টুনা রহমান। আহা,সেই টিন টিন এর মত নাম,নামের জন্যেই যেন একবার বুক ধুক করে উঠে টুইয়ের। হাইট ৫ ফুট ৮,ওয়েট ৬৮ কেজি। বয়স ২৫ বছর সাত মাস। পুরাই ডিজিটাল টুনা,এই টুনা আবার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারও। যতই পড়ে ততই বুকের বাম পাশে চিন চিন করে টুইয়ের। কাহিনীতো পুরাই উল্টে যাচ্ছে,নাহ মিশন থেকে সরে যাওয়া যাবেনা। কোনভাবেই টুইয়ের বিয়ে করা যাবেনা। আবার ফেসবুক প্রোফাইল লিঙ্কও দেওয়া শেষে। ইসস,এখনোতো টুনার ছবিই দেখা হলনা,কাঁপা কাঁপা হাতে খামটা খুলে ফেলে। উমম,খারাপ নাহ,চলে। উফফ,এইসব কি ভাবছে টুই,এটা কোন কথা হল টুনার ছবি দেখেই হাব্বি বানিয়ে ফেলার স্বপ্ন দেখছে টুই। হুরর,অসম্ভব,একটা মেকানিক কে বিয়ে করবে টুই। হুহ,কার্টুন না দেখলে যার ঘুমই আসেনা,সেই টুই আবার মেকানিকের বউ হবে। হাসি পায় টুইয়ের। আজকেই কেলেঙ্কারী করতে হবে টিক টিক কে দিয়ে। টিক টিক আবার টুইয়ের বেস্টু ফ্রেন্ডু। যাই হোক কোনমতেই এই বিয়ে হতে দেওয়া যাবেনা।

-ঐ তুই কইরে?

ফোন দিয়েই তেজ নিয়ে জিজ্ঞাসা করে টুই।

-আমিতো মামা চান্দের দেশে,ফিলিংসে আছি। তুই কই?

-বদ,আমি তোর ফিলিংসের রকেট ফুটা করতাছি। ঐ আমার বিয়া ঠিক হইছে আবার,এইটারেও সাইজ করতে হব।

-তোর লেডি হিটলারের কি আর খাইয়া কাম নাইরে?এত্ত পাত্র কই থেকে আমদানী করে?

-আল্লাহই জানে রে দোস্ত,বাঁচা আমারে। আমি বিয়া করুম না।

-টেনশন নট মামা,কাম হইয়া যাইব। কালকে আর আইতেছে না ঐ পোলা।

ফোন রেখেও নিশ্চিন্ত হতে পারেনা টুই,এর আগের প্লান কাজ করলেও এটা মাঠে মারা পড়বে নাতো। আরে ছেলেরা এত চালাক হয় নাকি,ছেলেরা হয় ছাগল,লম্বা লম্বা দাড়িওয়ালা রামছাগল। এত বুদ্ধি আছে নাকি আবার? হাসি আটকে ঘুমাতে যায় টুই,এই মুহুর্তে মাকে কিছু বুঝতে দেওয়া যাবেনা।

৩।

সকাল হতেই টেনশন হচ্ছে টুইয়ের,টিক টিকের ফোন আসেনি এখনো। কাজটা ঠিকমত হল নাকি সেটারও নিশ্চয়তা নাই। সেই যে রিমোট হাতে বসে আছে টুই,আজকে কার্টুন নেটওয়ার্কে পাপাই দেয়ার কথা। কার্টুনটাও শুরু হচ্ছেনা এখনো,নিশ্বাস চেপে আছে টুইয়ের্। বারবার ফোনের দিকে তাকাচ্ছে ও। হুমমম,এতক্ষনে বাবাজির সময় হল,তাও আননোওন নাম্বার থেকে ফোন দিয়েছে,মিশনের গোপনিয়তার জন্যেই হয়ত।

-হ্যা বল দোস্ত,মিশন কমপ্লিট??

-হ্যালো টুই?

এহেম,এইটা আবার কে?টুইয়ের ফোনে অচেনা পুরুষের কল। রাগ নিয়েইজবাব দেয় টুই,

-আপনি কে?

-আমি টুনা।

-মানে??

কথা আটকে আসে টুইয়ের,কাহিনী কি হল বুঝার ক্ষমতা নেই ওর্। এই রামছাগলটা ওর নাম্বার পেল কোথায়?উফফ,আম্মা।

-জ্বী,আমি টুনা।

ওপাশের কন্ঠটা শুনে যেন বুকটা আরেকবার কেঁপে উঠে টুইয়ের।

-হম,বলেন।

-তোমার বয়ফ্রেন্ড তো ফোন দিছিল,টিক টিক না কি যেন নাম।

-হুম।

বলার মত কিছু পায়না টুই,টিক টিক হাবলাটা সিউর কট খাইছে। বলদটাকে দিয়ে কিচ্ছু সম্ভব নাহ।

-হুম হুম করে লাভ নাই,কথা হল রিলেশন থাকলে ঐটা বাদ,এখন থেকে আমার সাথেই রিলেশন হবে। বুঝছ?বিকেলে আসছি,ভাল মত সেজে থাকবা।

-হুম।

জবাব দিয়েও থতমত খেয়ে যায় টুই,এটা কি হল?উল্টা ছ্যাকা কিভাবে?লুলের উপর লুল,টুইতো পুরা আবুল টাইপ কাহিনী। টুইয়ের উপর মাতব্বরী,হুহ,দেখা যাক বিয়ে কিভাবে হয়। ফোন রেখে দেয় টুই,কার্টুন দেখার সময় নেই,নতুন প্লান দরকার।

একগাদা রাগ নিয়ে টিক টিক কে ফোন লাগায় টুই। কাছে পেলে বলদটাকে আর আস্ত রাখবেনা।

-হারামী,তুই এত গাধা হইলি কিভাবে??পুরা কট খাইছস?

-আরে দোস্ত আমি কেমনে জানমু ঐ পোলা তোর মায়ের নাম্বার জানে,তোর আম্মাজানই তো গিট্টু লাগাইছে।

-হু,বুঝছি। ঐ টুকিরে ফোন দিয়া বলত আম্মাকে জানি বলে ঐ পোলারে গার্লফ্রেন্ডের সাথে মার্কেটে দেখছে।

-টেনশন নট দোস্ত,তুই আন্টির নাম্বার খোলা রাখ,ফোন গেল বলে।

টুকিই টুইয়ের শেষ ভরসা,মেয়ে দেখা যেকোন মতে আটকাতেই হবে। চুল টেনে ছিড়তে ইচ্ছা করে টুইয়ের। টুকি টুইয়ের পিচ্চিকালের বান্ধুবী,জানু মানু। ওর উপর টুইয়ের অগাধ বিশ্বাস,সামলে নিবে ও সিউর। আর আম্মা তো মেয়ে বান্ধবীওয়ালা পোলা দেখতেই পারেনা। আহহ,কি শান্তি। এবার বুঝবে চান্দু,কত ছাগলের কত দাড়ি,সাহস কত টুইকে বলে সেজে থাকতে। হুহ,অবশেষে কার্টুনে মন বসে টুইয়ের।

৫।

টুকিও ফেল্টু বলিয়া গন্য হয়েছে,বিরস বদনে তাই টুইকে মেকাপ নিতে বসতে হল। এই মেকানিকের হাত থেকে বাঁচার নতুন উপায় ভাবতে থাকে সে,তার মধ্যে ঝামেলা হল আম্মা। হুম,ভাইয়াকেই পট্টী দিতে হবে। এই পিচ্চি বয়সে বিয়ে হলে হইল কিছু। টুইয়ের কত্ত ইচ্ছা আগে দশ বছর প্রেম করবে,বর্ষার মধ্যে হাত ধরে ভিজবে,হাটতে হাটতে গাধাটা হঠাত করেই একগাদা কদম ফুল এনে দিবে,তা না আম্মা কই থেকে এক রামছাগল মেকানিক ধরে আনছে। মেকানিকের শখ কত টুইকে বলে রিলেশন বাদ। ধরে আছাড় দিলেই সাইজ হবে ছাগলটা। উনি আবার এসে বসে আছেন টুইকে দেখবে বলে,হাত নিশপিশ করে টুইয়ের্। একবার পেলে,কি যে করত। এখনো অবশ্য সামনা সামনি দেখা হয়নি,দেখতে ভাল হলে তাই টুইয়ের কি,ও কি আর একটা ছাগল কে বিয়ে করবে। উফফ,আম্মাটাও না ডাকাডাকি শুরু করে দিয়েছে,ভাল্লাগেনা আর টুইয়ের।

টুই এখন দাঁড়িয়ে আছি আমাদের গল্পের নায়ক টুনা সাহেবের সামনে,অবশ্য মুখ তুলে তাঁকাতে পারছেনা ও। আম্মা আর ভাবী এক হয়েছে আবার,দুজনকে বারান্দায় একা রেখে উধাও। এখন কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা টুই,এমনিতেই মাথা গরম হয়ে আছে ওর্। সত্যি সত্যি মেকানিকের থুতনীতে দাড়ি,এইটা কিছু হইল?এইরকম ছাগলের সাথে কিভাবে থাকবে টুই।

-তারপর তোমার বয়ফ্রেন্ডের খবর কি?

-ভাল।
উত্তর দেয়ার মত কিছু খুঁজে পায়না টুই,প্রশ্ন গুলোও করা হয়না তার্।

-কোন মেয়ের সাথে মার্কেটে দেখছে আমাকে তোমার ফ্রেন্ড?শোন,যত চেষ্টাই কর বিয়ে হবেই। বিয়ের আগে যদি প্রেম করার ইচ্ছা থাকে,বিয়ে তিনমাস পেছানো যায়।

বলেই হাসতে থাকে মেকানিক সাহেব। এদিকে কথা শুনে পিত্তি জ্বলে যায় টুইয়ের্। এত্ত বদ মানুষ হয়,উড়ে এসে তো জুড়ে বসছেই,আবার পারলে টুইকেই সরিয়ে দেয়।

-দাড়ি কেটে ফেলতে হবে। ছাগলের মত ভাব আমার পছন্দ না।

কিভাবে কথাটা বের হল টুই নিজেও জানেনা,শুধু বুঝতে পারল কোথায় যেন একটা কিছু হয়ে গেল। দস্যি টুইয়ের উপর অধিকার দেখানো একজন কোথা থেকে যেন একবিন্দু প্রশ্রয়ের সম্মতিও পেয়ে গেল। তারপর কি আরো কিছু বলা লাগে,এইত শুরু হল আমাদের নায়ক নায়িকার জমে দই হওয়া প্রেম কাহিনী। বারান্দার বিরক্তির দেখাই যে ভালবাসা হয়ে যাবে তা হয়ত টুই নিজেও বুঝতে পারেনি। হুহ,অবশেষে মাছ ধরা পড়লই,মিশন ইম্পোসিবল কে পসিবল করেই দিল ছাগলটা।আমাদের রামছাগল মেকানিক টুনা তাহলে মহামতি টুইকে পটিয়েই ফেলল।

৬।

তারপর আর কি,ফেসবুকে সারারাত কার্টুনের গল্প আর সারাদিন মেকানিকের যান্ত্রিক ব্যস্ততায় ম্যাসেজিং। এর মাঝে মহামতি টুই যেন খানিকটা গোছানোই হয়ে গেছে এই দুই মাসেই। এখন আর কার্টুনে মন বসেনা,রুপানযেলের চুলের জাদু অথবা টিনটিনের এডভেঞ্চার কোনটাই আর অধির আগ্রহে দেখেনা টুই। বরং মন পড়ে থাকে মোবাইলের স্ক্রিনে,কিভাবে কিভাবে যেন টুইকে নিজের করে নিল ছাগলটা। অবশ্য এতদিনে ছাগল মার্কা দাড়ির স্থানে টুইয়ের পছন্দের খোঁচা খোঁচা দাড়ি উঠে গিয়েছে,কড়া নির্দেশ ক্লিন শেভ হলে টুনার মেকানিকগিরি ছুটিয়ে দিবে টুই। এতদিনেও একদিন হাত ধরে বৃষ্টি ভেজা হলনা এইযা আফসোস টুইয়ের,গাধাটা এখন পর্যন্ত টুইকে প্রপোজ পর্যন্ত করেনি। হুহ। একে যে কত ঘষামাজা করে স্বস্তির নিশ্বাস নিতে অস্থির হয়ে আছে টুই। এইত ১২ই সেপ্টেম্বর বিয়ে,আরো ৩৩দিন। কম নয় হিসেবে,অবশ্য মা আর ভাবী বিয়ের বাজার শুরু করেছে আরো আগেই। ইসস,বর্ষাটাও শেষের দিকে প্রায়,একদিনও সময় হলনা ছাগলটার টুইকে নিয়ে ভেজার। যাহ,টুই এই পোলাকে বিয়েই করবেনা,মরুকগা। রাগ করে টিভি ,ফোন অফ করে শুয়ে পড়ে টুই।

চিন্তা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে খেয়ালই করেনি টুই। ঘুম ভাঙ্গে ভাবীর ডাকে। টুইয়ের ফোন অফ পেয়ে টুনা ভাবীকেই ফোন লাগিয়েছে,ভাবীটাও কি অসভ্য। ফোন দিতে চলেও এসেছে,এইটুকু বোঝার ক্ষমতা নেই যে আমাদের টুই একটু রাগও করতে পারে। বাইরে বৃষ্টি নেমেছে। আজকের দিনটাই কেমন যেন মেঘলা মেঘলা,টুইয়ের কত্ত ইচ্ছা ছিল বৃষ্টিতে ভিজবে। ধুর,ছাগলটা আসলেই ছাগল। জোর করেই ফোনটা ধরিয়ে দিয়ে যায় ভাবী।

-ফোন বন্ধ কেন?সাহস বাড়ছে ইদানিং না?

-হুম।

-বারান্দায় যাও দেখ চরম বৃষ্টি হচ্ছে।

-যেতে পারবনা,ঘুমাচ্ছি।

-যেতে বলছি যাও,এই মুহুর্তে যাও।

উফফ,আবার সেই বারান্দা। সেই প্রথম দেখার বারান্দা। অনিচ্ছা নিয়েও উঠে পড়ে টুই। সত্যিই ঝুম বর্ষা নেমেছে আজ। বারান্দায় বৃষ্টির ছিঁট লাগে টুইয়ের,হালকা বাতাসে উড়তে থাকা চুল কানে গুঁজে যখন টুই নিচে তাঁকায়,হুহ,টুই আর নেই,শেষ। আজিব,ছাগলটা এই বৃষ্টিতে ভিজে চুপসে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে। হাতে আবার কদম ফুল। হঠাত করেই যেন ঝাপসা হয়ে আসে টুইয়ের চোখ,ভয়ঙ্কর রকমের দস্যি এই মেয়েটা ভালবাসার জন্যে এতটা আবেগী হতে পারে তা হয়ত আমাদের নায়ক সাহেবও ভাবেননি। হাতের ইশারায় বলতে হয়না কিছু,একাই টুইয়ের পা সিঁড়ির দিকে এগোয়।

-এই বৃষ্টিতে তোমাকে কে আসতে বলছে?হুহ,ভাব?যাও বাসায় যাও।

-তুমি আসলা কেন নিচে,হুহ। যাও উপরে যাও।

ঝগড়া শিখে ফেলেছে ছাগলটা। ইসস,ছাগলটা কি দেখছে না টুইয়ের চোখের কাজল গালে এক নকশা লেপ্টে দিচ্ছে,এমন কেন ছেলেরা?টুইয়ের ইচ্ছা হয় টুনার বুকে মাথা গুজে দিতে,কিন্তু মৃদু অভিমান বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।

-হাঁটবে কিছুটা পথ?

এই প্রশ্নের উত্তর দেয়না টুই,উত্তর দিতে হয়না এরকম প্রশ্নের্। শুধু চোখের গভীরের অনুভূতিই উত্তর হয় এসব প্রশ্নের্। হাঁটতে হাঁটতে হঠাতই হাতের মাঝে আরো একটি হাতের অস্তিত্ব অনুভব করে টুই। হাতের চাপে এটা বলে দিতে হয়না কতটা বিশ্বাসে এরকম হাত ধরা যায়।

-ভালবাসি,তবু বলা হয়না বারেবার,
প্রশ্ন শুধুই এটুকু হবেকি আমার?

উত্তরে কিছু বলেনা টুই,শুধু হাতটায় একটু চাপ দেয়। হুহ,হোকনা একটু ছাগল,তাও নির্ভর করাই যায়। ভাবে টুই,কাজলের নকশা লেপ্টে যাওয়ায় আরো মায়াবী হয়ে উঠে ওর মুখ। বহু কষ্টে কান্না থামিয়ে রাখে টুই। অবাক লাগে এরকম অনুভুতি দেখে,কি এমন থাকে এরকম বন্ধনে। যাক সবশেষে এখন টুই আর আমাদের রামছাগল টুনার প্রপোজ করা তো হল,হমম,হ্যাপি হ্যাপি এন্ডিং।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 48 - Rating 5 of 10
Relatedআরও দেখুনঅন্যান্য ক্যাটাগরি
গল্পঃ বিজয়ের হাসি গল্পঃ বিজয়ের হাসি
08 Aug 2018 at 2:10pm 400
"নিঃস্বার্থ ভালোবাসা" "নিঃস্বার্থ ভালোবাসা"
06 Jul 2018 at 5:46pm 500
এক বিকালের গল্প এক বিকালের গল্প
23 Jun 2018 at 10:42pm 1,023
গল্পঃ মায়াবিনী গল্পঃ মায়াবিনী
14 May 2018 at 8:54pm 1,739
রিফাত ও অথৈই এর চরম ভালবাসার গল্প রিফাত ও অথৈই এর চরম ভালবাসার গল্প
31 Mar 2018 at 2:19pm 1,685
জীবন দিয়ে ভালবাসার প্রমাণ জীবন দিয়ে ভালবাসার প্রমাণ
16 Jan 2018 at 7:42pm 5,997
ভালোবাসার অসমাপ্ত গল্প ভালোবাসার অসমাপ্ত গল্প
4th Dec 17 at 10:27pm 3,832
প্রেম ও আমি... প্রেম ও আমি...
10th Sep 17 at 11:12pm 5,595

পাঠকের মন্তব্য (0)

Recent Posts আরও দেখুন
ভারতকে পাত্তাই দেয়নি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলভারতকে পাত্তাই দেয়নি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল
2 hours ago 266
প্রিয়াঙ্কার এনগেজমেন্ট নিয়ে যা বললেন তার সাবেক প্রেমিক শহিদ কাপুরপ্রিয়াঙ্কার এনগেজমেন্ট নিয়ে যা বললেন তার সাবেক প্রেমিক শহিদ কাপুর
2 hours ago 117
তিন কক্ষের একটি ছোট্ট ঘরে থাকবেন ইমরান খানতিন কক্ষের একটি ছোট্ট ঘরে থাকবেন ইমরান খান
5 hours ago 145
যে কারণে আর্জেন্টিনা দল থেকে বাদ পড়েছেন মেসিযে কারণে আর্জেন্টিনা দল থেকে বাদ পড়েছেন মেসি
5 hours ago 335
দেশি চলচ্চিত্রে যত ভিনদেশি ভিলেনদেশি চলচ্চিত্রে যত ভিনদেশি ভিলেন
6 hours ago 292
প্রিয়াঙ্কার অনুষ্ঠানে যাবেন না শাহরুখ-সালমান?প্রিয়াঙ্কার অনুষ্ঠানে যাবেন না শাহরুখ-সালমান?
6 hours ago 195
ক্রিকেট অধিনায়ক কে কত বেতন পান জানেন?ক্রিকেট অধিনায়ক কে কত বেতন পান জানেন?
6 hours ago 510
মজার ধাঁধা সমগ্র - ৪৯তম পর্বমজার ধাঁধা সমগ্র - ৪৯তম পর্ব
9 hours ago 77
বাণী-বচন : ২০ আগস্ট ২০১৮বাণী-বচন : ২০ আগস্ট ২০১৮
9 hours ago 55
টিভিতে আজকের খেলা : ২০ আগস্ট, ২০১৮টিভিতে আজকের খেলা : ২০ আগস্ট, ২০১৮
9 hours ago 122