জামাতে নামাজ পড়ার ফজিলত

ইসলামিক শিক্ষা 19th Sep 16 at 2:43pm 677
Googleplus Pint
জামাতে নামাজ পড়ার ফজিলত

গ্রহণযোগ্য কোনো কারণ ছাড়া নামাজের জামাতে শামিল না হওয়ার সুযোগ নেই। রসুল (সা.) জামাতে নামাজ পড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তা বাধ্যবাধকতার শামিল। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেন, ‘আজান শোনার পর কোনো ওজর না থাকা সত্ত্বেও যে লোক নামাজের জামাতে শামিল হয় না, তার ঘরে বসে একাকী পড়া নামাজ মঞ্জুর হবে না।’ জানতে চাওয়া হলো, ইয়া রসুলুল্লাহ! ওজর বলতে কি বোঝায়? তিনি বললেন, ‘বিপদাশঙ্কা অথবা রোগব্যাধি।’— আবু দাউদ, ইবনে হেব্বান ও ইবনে মাজা।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) আরও বর্ণনা করেন, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তিকে আল্লাহপাক অভিশাপ দিয়েছেন : (১) যে লোক জনগণের অপছন্দ সত্ত্বেও তাদের নেতা হয়ে বসে (২) যে নারী তার ওপর স্বামী অসন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় রাতযাপন করে (৩) নামাজের আজান ও কল্যাণের আহ্বান শুনেও যে লোক জামাতে শামিল হয় না।’ —হাকেম।

হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘মসজিদের প্রতিবেশীর নামাজ মসজিদ ছাড়া দুরস্ত হবে না।’ প্রশ্ন করা হলো : মসজিদের প্রতিবেশী কে? তিনি বললেন, ‘বাড়িতে বসে যে আজান শুনতে পায়।’— মুসনাদে আহমদ।

বোখারি শরিফে বর্ণিত আছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন : ‘কেয়ামতের দিন যে লোক মুসলমান হিসেবে আল্লাহর দিদার লাভ করতে চায়, সে যেন প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে। কেননা মহান আল্লাহ তোমাদের নবীর জন্য দেহায়েতের বিধানাবলি প্রবর্তন করে দিয়েছেন। আর এ নামাজগুলো হচ্ছে হেদায়াতের অন্যতম পন্থা। অনেকের মতো তোমরাও যদি আপন গৃহে বসে নামাজ পড়, তবে তোমাদের নবীর পথ ছেড়ে দিলে। আর তোমরা যদি নবীর পথ বর্জন কর, তবে গোমরাহীতে নিপতিত হবে। আমার জানা মতে, মুনাফিক বা অসুস্থ ব্যক্তি ছাড়া কেউ জামাতে শামিল হতে পিছপা হয় না। অথচ যে লোক দুজনের কাঁধে ভর দিয়ে কাতারে দাঁড়ায় অথবা মসজিদ পর্যন্ত আসে, অবশ্যই সে জামাতে নামাজের জন্য আসে।’

পক্ষাঘাত রোগে অসুস্থ রবী বিন খায়সাম দুই লোকের কাঁধে ভর দিয়ে মসজিদে এসে জামাতে শামিল হতেন। তাকে বলা হতো, আপনি তো মাজুর, আপনার ঘরে বসে নামাজ পড়া তো বৈধ। তিনি বলতেন, ‘তা কীভাবে হয়? আমি তো নামাজের আহ্বান শুনতে পাই। কাজেই যার সাড়া দেওয়ার সামর্থ্য আছে, হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাকে তাতে সাড়া দিতেই হবে।’

ইসলামের সোনালি যুগের কোনো কোনো বুজুর্গ বলতেন, নামাজের জামাত ছুটে যাওয়া, পাপের কারণে হয়ে থাকে। হজরত ইবনে ওমর (রা.)-এর বর্ণনায় আছে, একবার হজরত ওমর (রা.) তার এক দেয়ালঘেরা খেজুর বাগান দেখতে গেলেন। ফিরে এসে দেখেন, আসর নামাজের জামাত শেষ হয়ে গেছে। তিনি তত্ক্ষণাত জামাত ছুটে যাওয়ার কাফফারা স্বরূপ খেজুর বাগানটি দরিদ্রদের মাঝে সদকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 13 - Rating 5 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)