রজনীগন্ধা আসলে আমাদের ফুল নয়!

পুষ্প কথন 8th Jun 16 at 4:16am 2,763
Googleplus Pint
রজনীগন্ধা আসলে আমাদের ফুল নয়!

'আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো গন্ধ বিলিয়ে যাই....'। সাবিনা ইয়াসমীনের কণ্ঠে এ গানটি শোনেননি এমন মানুষ কমই পাওয়া যাবে। অপূর্ব সুন্দর এই গানে মনোমুগ্ধকর রজনীগন্ধার নামটি চলে এসেছে। যেকোনো অনুষ্ঠান, বিয়ে বাড়িতে এই ফুলটি ছাড়া যেন অভাব থেকেই যায়। যুগে যুগে এই ফুলকে আমরা নিজেদের বলেই মনে করি। আসলে কি তাই?

সবুজ চিকন কাণ্ডজুড়ে ধবধবে সাদা ফুলগুলো মনটাই ভালো করে দেয়। এর গন্ধ নেশা ছড়ায়। টিউবাররোজেস (বৈজ্ঞানীক নাম পলিয়ানথেস টিউবারোজা) আমাদের কাছে রজনীগন্ধা নামেই সুপরিচিত। একে নিজেদের দেশের ফুল বলেই গণ্য করি আমরা। কিন্তু আসলে তা নয়। শত বছর আগেও এই ফুল কেবল মেক্সিকোতেই শোভা পেত। কারণ ওটাই রজনীগন্ধার ভিটেবাড়ি। ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজদের আগমনের পর এ ফুল আনা হয়। এখানকার উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু রজনীগন্ধা চাষের উপযুক্ত। তারাই এ অঞ্চলে প্রথম রজনীগন্ধার চাষ শুরু করে।

রজনীগন্ধা শব্দের অর্থ অনেকটা এমন দাঁড়ায়- 'রাতের গন্ধ ছড়ানো ফুল'। আর এটাই সত্য। এ ফুল রাতে পরিবেশটাকে মোহনীয় করে দেয়। টিউব আকৃতির ফুলগুলো অবর্ণনীয় গন্ধ ছড়ায়। রাতের আঁধারে সাদা ফুলগুলো অদ্ভুত সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

অধিকাংশ নার্সারিতেই এই ফুল উৎপাদন হয়ে থাকে। এমনকি বাড়ির বাগানেও তার চাষ সম্ভব। বর্ষার শুরুতেই এ ফুলের চাষ শুরু হয়। চারাকে দিনে ৩-৪ ঘণ্টা সূর্যের আলোয় রাখতে হয়। এর মঞ্জরি না আসা পর্যন্ত পানি দিতে হয়। মঞ্জরি আসলে প্রতিসপ্তাহে একবার পানি দিতে হয়। তবে উদ্ভিদের গোড়ায় যেন পানি জমে না থাকে তার খেয়াল রাখতে হবে। যদি এর পাতা মরে যেতে থাকে এবং মাটি অতিরিক্ত আর্দ্র হয়ে যায়, বুঝবেন পানি বেশি দেওয়া হচ্ছে।

চার মাসের মধ্যে গন্ধ ছড়ানো প্রথম ফুল ফুটবে। আবার প্রথম বছরের মধ্যে তা না ঘটলেও চিন্তার কিছু নেই। ফোটার সময় এর পাতাগুলো হলুদ হয়ে উঠবে। এ সময় এর গাছ মারা যাবে। ফুলের স্টিকগুলো সংগ্রহ করুন এবং বাড়িতে ব্যবহার করুন।

Googleplus Pint
Like - Dislike Votes 30 - Rating 5 of 10

পাঠকের মন্তব্য (0)